Jhalda

সমর্থন তৃণমূলের ৪ সদস্যর, ঝালদার গ্রাম পঞ্চায়েত দখল বিজেপির

স্থানীয় বিধায়কের দাবি, 'উন্নয়নের কাজে যাতে কোথাও কোনও রাজনীতি না হয়, এটাই আমাদের লক্ষ্য।'

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ২৩:১১

options
link
সমর্থন তৃণমূলের ৪ সদস্যর, ঝালদার গ্রাম পঞ্চায়েত দখল বিজেপির
নবনির্বাচিত বিজেপির প্রধানকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো। নিজস্ব চিত্র

তৃণমূলের ৪ সদস্যের সমর্থনে পুরুলিয়ার ঝালদা ১ ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের ওই সদস্যদের সঙ্গে বিজেপিকে সমর্থন করা তৃণমূলের ওই ৪ সদস্য বুধবার গেরুয়া আবির মেখে ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েত দখলের উল্লাসে শামিল হন। তবে এই তৃণমূলের সদস্যরা মমতাপন্থী নাকি ঋত শিবিরের তা তারা নিজেরাই পরিষ্কার করে উঠতে পারেননি। নতুন প্রধান হয়েছেন বিজেপির হেমানি মাহাতো। তিনি বলেন, “এখানে কোনরকম উন্নয়নের কাজ হয়নি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। এবার এই পঞ্চায়েতে উন্নয়ন হবে।”

Advertisement

এই ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ১২টি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে ৭ টি আসনে জয়লাভ করে। বিজেপি জয়লাভ করে ৫ টি আসনে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের প্রধান হলে সেই পদ পান প্রলয় চট্টোপাধ্যায়। উপপ্রধান পদটি সংরক্ষিত থাকায় তৃণমূলের কেউ জয়লাভ না করায় বিজেপির ঝরনা মণ্ডল উপপ্রধান হন। পঞ্চায়েত গঠনের দেড় বছরের মাথায় তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন থেকে উপপ্রধানের পদ শূন্য। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল প্রধান প্রলয় চট্টোপাধ্যায় অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১৮ মে ইস্তফা দিয়ে দেন। তারপর থেকে এই পঞ্চায়েতকে নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।

Advertisement

কেউ বলছিল প্রশাসক বসবে। আবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কোন আইনি লড়াইয়ের পথে যাবে এই পঞ্চায়েত। এর মধ্যেই এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচনের দু’দুবার বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু বিশেষ কারণে সেই বৈঠক বাতিল করে দেয় প্রশাসন। এদিন প্রধান নির্বাচনের বৈঠকে পুলিশ ছিল চোখে পড়ার মত। দেখা যায় বিজেপি ও তৃণমূলের ৪ সদস্য মিলে মোট ৮ জন
প্রধান নির্বাচনে অংশ নেন। তবে প্রধান পদ থেকে সরে আসা প্রলয় চট্টোপাধ্যায় সহ মোট তৃণমূলের ৩ সদস্য ওই দিন গরহাজির ছিলেন। প্রধান পদে হেমানী মাহাতোর নাম প্রস্তাব করা হলে বিজেপির ৪ এবং তৃণমূলের ৪ সদস্যও তাঁকে সমর্থন করেন। বিজেপির প্রধানকে সমর্থন করা তৃণমূলের ৪ সদস্য হলেন বিকাশ মণ্ডল, সুনীল মাহাতো, শচীন মাহাতো ও রেখাবালা মাহাতো। তিনি বলেন, ” এলাকায় উন্নয়নের কারণেই বিজেপিকে সমর্থন করেছি। আমরা চাই এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভালোভাবে উন্নয়নের কাজ হোক। যা আগে হয়নি।”

Advertisement

এদিন প্রধান নির্বাচনের দিন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরে ছিলেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো, বিজেপির জেলা কংগ্রেস সভাপতি শংকর মাহাতো। তারা নতুন প্রধানকে ফুল- মালায় অভিনন্দন জানান। বিধায়ক রহিদাস মাহাতো বলেন, “যারা আমাদের দলের প্রধানকে সমর্থন করেছেন তারা চান এলাকায় উন্নয়ন হোক। সেই কারণেই সমর্থন। উন্নয়নের কাজে যাতে কোথাও কোনও রাজনীতি না হয়। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.