তৃণমূলের ৪ সদস্যের সমর্থনে পুরুলিয়ার ঝালদা ১ ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের ওই সদস্যদের সঙ্গে বিজেপিকে সমর্থন করা তৃণমূলের ওই ৪ সদস্য বুধবার গেরুয়া আবির মেখে ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েত দখলের উল্লাসে শামিল হন। তবে এই তৃণমূলের সদস্যরা মমতাপন্থী নাকি ঋত শিবিরের তা তারা নিজেরাই পরিষ্কার করে উঠতে পারেননি। নতুন প্রধান হয়েছেন বিজেপির হেমানি মাহাতো। তিনি বলেন, “এখানে কোনরকম উন্নয়নের কাজ হয়নি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। এবার এই পঞ্চায়েতে উন্নয়ন হবে।”
আরও পড়ুন:
এই ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ১২টি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে ৭ টি আসনে জয়লাভ করে। বিজেপি জয়লাভ করে ৫ টি আসনে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের প্রধান হলে সেই পদ পান প্রলয় চট্টোপাধ্যায়। উপপ্রধান পদটি সংরক্ষিত থাকায় তৃণমূলের কেউ জয়লাভ না করায় বিজেপির ঝরনা মণ্ডল উপপ্রধান হন। পঞ্চায়েত গঠনের দেড় বছরের মাথায় তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন থেকে উপপ্রধানের পদ শূন্য। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল প্রধান প্রলয় চট্টোপাধ্যায় অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১৮ মে ইস্তফা দিয়ে দেন। তারপর থেকে এই পঞ্চায়েতকে নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
কেউ বলছিল প্রশাসক বসবে। আবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কোন আইনি লড়াইয়ের পথে যাবে এই পঞ্চায়েত। এর মধ্যেই এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচনের দু’দুবার বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু বিশেষ কারণে সেই বৈঠক বাতিল করে দেয় প্রশাসন। এদিন প্রধান নির্বাচনের বৈঠকে পুলিশ ছিল চোখে পড়ার মত। দেখা যায় বিজেপি ও তৃণমূলের ৪ সদস্য মিলে মোট ৮ জন
প্রধান নির্বাচনে অংশ নেন। তবে প্রধান পদ থেকে সরে আসা প্রলয় চট্টোপাধ্যায় সহ মোট তৃণমূলের ৩ সদস্য ওই দিন গরহাজির ছিলেন। প্রধান পদে হেমানী মাহাতোর নাম প্রস্তাব করা হলে বিজেপির ৪ এবং তৃণমূলের ৪ সদস্যও তাঁকে সমর্থন করেন। বিজেপির প্রধানকে সমর্থন করা তৃণমূলের ৪ সদস্য হলেন বিকাশ মণ্ডল, সুনীল মাহাতো, শচীন মাহাতো ও রেখাবালা মাহাতো। তিনি বলেন, ” এলাকায় উন্নয়নের কারণেই বিজেপিকে সমর্থন করেছি। আমরা চাই এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভালোভাবে উন্নয়নের কাজ হোক। যা আগে হয়নি।”
এদিন প্রধান নির্বাচনের দিন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরে ছিলেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো, বিজেপির জেলা কংগ্রেস সভাপতি শংকর মাহাতো। তারা নতুন প্রধানকে ফুল- মালায় অভিনন্দন জানান। বিধায়ক রহিদাস মাহাতো বলেন, “যারা আমাদের দলের প্রধানকে সমর্থন করেছেন তারা চান এলাকায় উন্নয়ন হোক। সেই কারণেই সমর্থন। উন্নয়নের কাজে যাতে কোথাও কোনও রাজনীতি না হয়। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘হিরো, আপনিই বাঁচিয়েছেন’, ককপিটে সতীর্থের ছুরিতে রক্তাক্ত হয়েও কর্তব্যে অবিচল ভারতীয় পাইলট
-
বার্বিকিউ কাণ্ড থেকে শিক্ষা! দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কত হোমস্টে? রিপোর্ট চাইলেন মন্ত্রী
-
রাজ্যে আম্বানিদের বিনিয়োগ! রিলায়েন্স কর্তাদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, বললেন, ‘ঢপবাজি বন্ধ, এবার শুধু কাজ’
-
নজিরের ছড়াছড়ির রাতে উজ্জ্বল গিল, রোহিত এখনও ‘হিট’, বোলারদের বধ্যভূমিতে সিরিজ জয় ভারতের
-
ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পরিবেশ দু’টোই গুরুত্বপূর্ণ! বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞায় ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের