Chandana Bauri

শালতোড়া হাসপাতালে রোগীকে নিষিদ্ধ রিঙ্গার ল্যাকটেট, অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের

অভিযোগ, ইনজেকশন বা স্যালাইন দেওয়ার পরই কয়েকজন রোগীর শরীরে প্রবল কাঁপুনি দিচ্ছে। অভিযোগ পেয়েই ছুটে আসেন বিজেপি বিধায়ক।

টিটুন মল্লিক
টিটুন মল্লিক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ২০:৫০

options
link
শালতোড়া হাসপাতালে রোগীকে নিষিদ্ধ রিঙ্গার ল্যাকটেট, অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের
১৫ জুলাই, বুধবার। শালতোড়া হাসপাতালে বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। নিজস্ব ছবি।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে একের পর এক শয্যায় শুয়ে জ্বরে কাবু রোগীরা। কারও হাতে চলছে স্যালাইন, কোথাও রোগীর শিয়রে উৎকণ্ঠায় দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যেরা। সেই সময়ই হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। রোগীর আত্মীয়দের ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে একের পর এক অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। অভিযোগ, ইনজেকশন বা স্যালাইন দেওয়ার পরই কয়েকজন রোগীর শরীরে প্রবল কাঁপুনি দিচ্ছে। সব খতিয়ে দেখার পর বিধায়ক অভিযোগ করেন, কয়েকজন রোগীকে নিষিদ্ধ রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

এদিন হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক। তারপর হাসপাতালের স্টোররুমে ঢুকে মজুত থাকা স্যালাইন, ইনজেকশন ও ওষুধ খতিয়ে দেখেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে চন্দনা বাউরির অভিযোগ, চিকিৎসকেরা রোগীদের এনএস (নরমাল স্যালাইন) দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালে এনএস স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন রোগীকে আরএল (রিঙ্গার ল্যাকটেট) স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। কেন এমন হয়েছে, তার স্পষ্ট জবাব তিনি পাননি বলেও জানান। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি জানাতে হাসপাতালের বিএমওএইচ-কে ফোনে ডাকা হলেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তিনি হাসপাতালে আসেননি।

Advertisement

বিধায়ক জানান, গোটা ঘটনার কথা তিনি বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সুরেনকে জানিয়েছেন এবং তদন্তের দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শ্যামল সুরেন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। রোগীদের কাঁপুনির প্রকৃত কারণ কী, স্যালাইন ব্যবহারে আদৌ কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শালতোড়ার মানুষ।

Advertisement

উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়ার জন্য প্রসূতি মৃত্য়ুর ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। অসুস্থ হয়েছিলেন একাধিক প্রসূতি। এরপরই রিঙ্গার ল্যাকটেট-সহ একাধিক স্যালাইনের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় ১০ ধরনের স্যালাইন নিষিদ্ধ করা হয়। তার মধ্যে ছিল রিঙ্গার ল্যাকটেট ৫০০ এমএল, রিঙ্গার সলিউশন আইপি ইনজেকশন-৫০০ এমএলও। এরপরেও কেন এই স্যালাইন ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.