Birbhum

পদ্মের হাতেই পঞ্চায়েতের ‘রিমোট’, বোর্ড তৃণমূলের থাকলেও বীরভূমে পছন্দের মুখ বসানোর ছক বিজেপির!

জেলা বিজেপিরই এক নেতার বক্তব্যে জল্পনা অন্য মাত্রা পেয়েছে।

সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:১১

options
link
পদ্মের হাতেই পঞ্চায়েতের ‘রিমোট’, বোর্ড তৃণমূলের থাকলেও বীরভূমে পছন্দের মুখ বসানোর ছক বিজেপির!
ফাইল ছবি।

রাজ্যে পালাবদলের পর বীরভূমের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় যেন উলটপুরাণ। কাগজে-কলমে বোর্ড তৃণমূলের, অথচ আগামী ২০২৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্যন্ত জেলার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে জেলা পরিষদ—কোথায় কে নেতৃত্ব দেবেন, সেই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ নাকি বিজেপির হাতেই! এমনই দাবি ঘিরে এখন সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যেখানে দলের প্রতিনিধিত্ব নেই, সেখানে কে কোন পদে বসবেন তা নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেষ্টার জেলা হিসাবে পরিচিত বীরভূমে কার্যত একতরফা জয় পেয়েছিল তৃণমূল। ফলে জেলার অধিকাংশ পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে তাদেরই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এমনকী ৫০ শতাংশেরও বেশি জায়গায় বিরোধীদের কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বোর্ডগুলিতেই শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পালা! কোথাও প্রধান বা সভাপতি পদত্যাগ করছেন, কোথাও আবার দলের অন্দরেই উঠছে অনাস্থার সুর।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় ঘটনা বীরভূম জেলা পরিষদ। সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও ভোটাভুটির আগেই পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর নতুন সভাধিপতি কে হবেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছিল প্রাক্তন সভাধিপতি তথা সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী এবং প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ হালদারের নাম। কিন্তু দুজনেই অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁদের নিয়ে বিজেপির আপত্তি রয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি।

Advertisement

বরং অনুব্রত এবং কাজল—দুই গোষ্ঠী থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখা, তুলনামূলক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদেরই সামনে আনার নীতি নিয়েছে বিজেপি। দলের নিজস্ব প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তৃণমূলের অন্দর থেকেই ‘পছন্দের’ মুখ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। জেলা পরিষদের তৃণমূল দলনেতা নবগোপাল বাউরীর মন্তব্যেও সেই জল্পনা আরও জোরালো। তাঁর কথায়, “সভাধিপতি হিসেবে বিজেপি যাকে চাইবে আমরা তাকেই সমর্থন করব।” যদিও এহেন অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যেখানে দলের প্রতিনিধিত্ব নেই, সেখানে কে কোন পদে বসবেন তা নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গোষ্ঠীর চাপে এতদিন মুখ বন্ধ রাখা তৃণমূল নেতারা এখন নিজেরাই সরব হচ্ছেন।

তবে জেলা বিজেপিরই এক নেতার বক্তব্যে জল্পনা অন্য মাত্রা পেয়েছে। তাঁর কথায়, “কে কোথায় বসবে তা ঠিক করা আছে, সব একে একে হয়ে যাবে। কেউই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যেতে চায় না।” ফলে প্রকাশ্যে দায় অস্বীকার করলেও জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ‘রিমোট’ যে কার্যত বিজেপি নিজের হাতেই রেখেছে, তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.