শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল বনগাঁ, স্কুলেই শিক্ষককে বেদম মার

অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার, স্কুলে ভাঙচুর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮, ০৯:০৪

options
link
শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল বনগাঁ, স্কুলেই শিক্ষককে বেদম মার

সোমনাথ পাল, বনগাঁ: যৌন হেনস্তার অভিযোগে উত্তাল দক্ষিণ কলকাতার কারমেল প্রাইমারি স্কুল। অনেকটা একইরকম ইস্যুতে উত্তেজনা বনগাঁর গোপালনগরে। কারমেলের মতো অভিযুক্ত শিক্ষক গণধোলাইয়ের শিকার হলেন।

Advertisement

[অভিভাবক-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, পড়ুয়ার যৌন নিগ্রহকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কারমেল চত্বর]

Advertisement

শিক্ষক

Advertisement

ঠিক কী নিয়ে গোপালনগরের নূতনগ্রাম সুহাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে অশান্তির সূত্রপাত? স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে গত বুধবার স্কুলে খাওয়ানো হয়। সেদিন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত ধরে টেনে আপত্তিকর আচরণ করেন বাংলার শিক্ষক শ্যামল সাহা। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ স্কুলে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করেছেন ওই শিক্ষক। এলাকার লোকজন এক হয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে এই বিষয়ে নালিশ করেন। এই নিয়ে শুক্রবার স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগে সাড়ে এদিন বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ গ্রামের লোকজন চড়াও হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিযুক্ত বাংলার শিক্ষককে যথেচ্ছভাবে মারধর শুরু হয়। কিল, ঘুসি, লাথি যথেচ্ছভাবে চলতে থাকে। পরে গ্রামবাসীদের একাংশ এগিয়ে আসায় কোনওরকমে বাঁচেন শ্যামল সাহা। তাঁকে স্কুলঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।  কেন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এই অভিযোগে স্কুলেও চলে তাণ্ডব। প্রধান শিক্ষকের ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।

[পরীক্ষায় বসেছে পড়ুয়ারা, অথচ নেতা-মন্ত্রীর মনোরঞ্জনে স্কুলে চটুল নাচ]

তবে শ্যামল সাহাকে নিয়ে এত কাণ্ডের পরও প্রধান শিক্ষক দীপক শিকদার এই ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তবে  স্কুলের তরফে পুলিশে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। গণ্ডগোলের খবর পেয়ে বনগাঁ ও গোপালনগর থানার পুলিশ স্কুলে যায়। মারমুখী জনতার হাত থেকে উদ্ধার করা হয় শিক্ষককে। অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুলেই রাখা হয়। তাঁর বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো ওই স্কুলে শ্যামল সাহা বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য বুধবারের ঘটনা অসন্তোষের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। শেষ পর্যন্ত অভিভাবকদের চাপে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দেখুন ভিডিও:

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.