Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
Temple

ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…

ঠিক কীভাবে ফাঁদ পাততো এই ভণ্ড?

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ২৩:০৭

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ২৩:০৭

options
link
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর… zoom
ধৃত পলাশ মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র।
Advertisement

ঠোঁটের গোড়ায় সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম। মুখে বিগলিত ভক্তিভাব। কীর্তনের গলাটাও নেহাত মন্দ নয়। তাই কন্ঠীধারী লোকটি যখন বৈষ্ণব মঠে এসে দিন দু’য়েকের জন‌্য থাকতে চায়, তখন আর বারণ করতে পারেননি মঠের অধ‌্যক্ষ। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার চেতলার গোবিন্দ আঢ্য রোডের ওই বৈষ্ণব মঠের অধ‌্যক্ষের ভুল ভাঙল পরের দিনই। মঠের ক‌্যাশবাক্স থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা ও এক সন্ন‌্যাসীর ঘর থেকে সোনার আংটি ও রুপোর চামচ লুট করে পালায় সেই সাধুরূপী ‘চোর’।

বাগবাজার থেকে দমদম বা চেতলা। একের পর এক বৈষ্ণব মঠই টার্গেট তার। দমদমের মঠ থেকে ৬ লাখ টাকা, বাগবাজার থেকে লক্ষাধিক টাকাও লুট করেছিল সে। শেষ পর্যন্ত গত ২৫ আগস্ট চেতলায় মঠে লুটের পরই তার খোঁজ করতে শুরু করেন চেতলা থানার আধিকারিক সন্দীপ পাল, সোমেশ মজুমদার ও তাঁদের টিমের সদস‌্যরা। উত্তর শহরতলির আগরপাড়ার আর এন টেগোর রোডের উপর প্রায় দু’শো মিটার দৌড়ে সেনবাজারের কাছ থেকে পলাশ মণ্ডল নামে ওই লুটেরাকে গ্রেপ্তার করলেন চেতলা থানার আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, তার অপরাধের ‘ইউএসপি’ হচ্ছে ভক্তিভাব। বৈষ্ণব সেজে একের পর এক মঠে গিয়ে দু’এক রাত কাটাতে চায়। তার নজরে থাকে সিন্দুক। সিন্দুক ভেঙেই সে টাকা নিয়ে পালায়। চেতলায় লুটের পর পলাশ পুরীতে পালিয়ে সেখানকার বৈষ্ণব মঠগুলি টার্গেট করার ছক কষেছিল।

Advertisement

তদন্ত শুরুর পর সন্দীপ পাল, সোমেশ মজুমদারদের টিম জানতে পারে যে, অভিযুক্ত রীতিমতো দাগী। এর আগে নদিয়ায় মাদক পাচারে কয়েক বছর জেল খেটেছে। আবার কৃষ্ণনগরের পুলিশ সুপারের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগেও সে গ্রেপ্তার হয়। মাস পাঁচেক আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মঠগুলিকে টার্গেট করে। সে আগে নদিয়ায় থাকলেও পরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বেলঘরিয়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে। ওই বাড়িতে গিয়ে তার সন্ধান মেলেনি। তার মোবাইলও বন্ধ। এমনকী, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে নৈহাটিতে গিয়ে মোবাইল খুলে স্ত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ‌্যাপ কলে কথা বলে। পুলিশ তার সন্ধানে নৈহাটি গেলে পালিয়ে আসে আগরপাড়ায়। এভাবে বাড়িতে না গিয়েও স্ত্রীর হাতে লুটের টাকা তুলে দিত। গত কয়েকদিন ধরে কখনও গঙ্গার ঘাট, কখনও বা স্টেশনে ঘুরে বেড়ায়। নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর সময়ই পুলিশ জানতে পারে যে, সে একটি বাইক ব‌্যবহার করে, যার লাইসেন্স করা হয়েছে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে। ওই বাইকটি আগরপাড়ার একটি গ‌্যারাজে রেখে দিয়েছিল সে।

শনিবার রাতে গ‌্যারাজ থেকে পলাশ বাইকটি নিতে আসবে, সেই তথ‌্য পুলিশের কাছে আসে। পুলিশও ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকে গ‌্যারাজের ভিতর অন্ধকারে। সে সেখানে আসামাত্রই পুলিশকর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন। সে পুলিশের হাত ছাড়িয়ে আগরপাড়া স্টেশনের দিকে দৌড়তে শুরু করে। পুলিশ আধিকারিকরাও তার পিছনে দৌড়ন। স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠে যাওয়ার ছক কষেছিল সে। যদিও পুলিশ দৌড়ে পলাশকে ধরে ফেলে। তাকে জেরা করে লুটের টাকার সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.