নিজস্ব সংবাদদাতা, বনগাঁ: কাউন্সিলরদের নিয়ে বোর্ড মিটিং করে পুর এলাকার বারোয়ারি মন্দিরের পুরোহিতদের মাসিক ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিল বনগাঁ পুরসভা। শনিবার পুরসভায় বোর্ড মিটিং করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। হাই কোর্টে মামলা চলছে, এখন বোর্ড মিটিং অসাংবিধানিক জানিয়ে রবিবার সকালে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপি বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। তিনি বলেন, “বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা বিষয় নিয়ে হাই কোর্টে মামলার হিয়ারিং শেষ হয়েছে। আগামীতে রায় ঘোষণা হবে। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যিনি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি শনিবার তিনটি বিষয় নিয়ে বোর্ড মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নিলেন। একই দিনে পরপর তিনটি আলাদা সময় তিনটি মিটিং করা হয়। গায়ের জোরে বোর্ড মিটিং করে হাই কোর্টকে অবমাননা করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন উনি।”
[আরও পড়ুন: নবীণবরণ অনুষ্ঠানে বনগাঁর কলেজে ‘হামলা’, গ্রেপ্তার এবিভিপি সমর্থক]
পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ায় তাদের কোনও আপত্তি নেই জানিয়ে দেবদাসবাবু আরও বলেন, গায়ের জোরে বোর্ড মিটিং করে আদালতকে অবমাননা করার বিষয়টা তারা হাই কোর্টকে জানাবেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ পুরসভায় শনিবার কাউন্সিলরদের নিয়ে বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছিল৷ তৃণমূলের সকল কাউন্সিলর ওই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে পুরপ্রধান শংকর আঢ্য বলেন, “বনগাঁ পৌরসভা এলাকায় প্রায় আড়াইশো পুরোহিত আছেন। প্রতিমাসে তাদেরকে ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়ার্ডের মানুষদের বাড়ির প্ল্যান অনুমোদন করে দেওয়ার কথা জানান কাউন্সিলররা। বিজেপির প্রেস কনফারেন্সের বিষয়ে তৃণমূলের উপপুরপ্রধান বলেন, ‘হাই কোর্ট থেকে পুরসভার কাজ বন্ধ করার কোনও নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি। মোট কাউন্সিলরের এক তৃতীয়াংশ এই বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। আমরা পুর আইন মেনেই বোর্ড মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ পুরসভার মোট ২২ জন কাউন্সিলর রয়েছে। সম্প্রতি ১২ জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যান শংকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়। পরে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেন৷ আদালতের নির্দেশে ভোটাভুটির দিন ধার্য হয়। ভোটাভুটির দিন রণক্ষেত্রে চেহারা নেয় বনগাঁ। তৃণমূল-বিজেপি উভয়পক্ষই আস্থা ভোটে জয় লাভ করেছে৷ পরে বিজেপি কাউন্সিলররা বোর্ড গঠন করা বিষয় নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। ফের উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানি শুরু হয়। হাই কোর্টের বিচারপতি এই মামলার এখনও কোনও রায় ঘোষণা করেননি।
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা