Kalyani

শোনেনি বাবার বারণ, ঝড়বৃষ্টি দেখেই শালিকের বাচ্চা বাঁচাতে ছুটেছিল কিশোর, বজ্রাঘাতে সব শেষ!

বাড়ির কাছের এলাকাতেই শালিকের বাচ্চা দেখে আত্মহারা হয়েছিল কিশোর। সেগুলি ঠিকমতো বড় হচ্ছে কিনা তার খেয়ালও ছিল ওই প্রকৃতিপ্রেমী কিশোরের। এদিন আকাশ কালো করে মেঘ আসার পরেই দুশ্চিন্তায় পড়েছিল সে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আর বাড়ি বসে থাকতে পারেনি।

সুবীর দাস
সুবীর দাস

শেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬, ১৮:৫৮

options
link
শোনেনি বাবার বারণ, ঝড়বৃষ্টি দেখেই শালিকের বাচ্চা বাঁচাতে ছুটেছিল কিশোর, বজ্রাঘাতে সব শেষ!
ঝড়বৃষ্টি দেখেই শালিকের বাচ্চা বাঁচাতে ছুটেছিল কিশোর। ছবি-এআই

বাড়ির কাছের এলাকাতেই শালিকের বাচ্চা দেখে আত্মহারা হয়েছিল কিশোর। সেগুলি ঠিকমতো বড় হচ্ছে কিনা তার খেয়ালও ছিল ওই প্রকৃতিপ্রেমী কিশোরের। এদিন আকাশ কালো করে মেঘ আসার পরেই দুশ্চিন্তায় পড়েছিল সে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আর বাড়ি বসে থাকতে পারেনি। বাবার কথা অমান্য করেই ছুটেছিল শালিকপাখির বাচ্চা রক্ষা করতে। আর ফিরল না! বজ্রাঘাতে প্রাণ হারাল ওই কিশোর! ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা-মা, প্রতিবেশীরা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কল্যাণীতে। মৃতের নাম মানস ব্যাপারী।

Advertisement

বছর ১৫ বয়সের মানসের বাড়ি কল্যাণী থানার শোকুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের লিচুতলা এলাকায়। বাড়িতে বাবা-মা আছেন। বাবা দীপক ব্যাপারী সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। কয়েক মাস আগে এক অঘটনে কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন তিনি। স্ত্রী ও ছেলেকে মানসকে নিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। ছেলে বরাবরই প্রকৃতি ভালোবাসে। কিশোর বয়সের আবেগ, অনুভূতিও অনেক বেশি। কিছুদিন আগে মানস দেখেছিল বাড়ির অদূরেই শালিকপাখির বাচ্চা হয়েছে। পাখির বাচ্চা দেখেই ছটফট শুরু করেছিল সে। সেই পাখির বাসা ঠিক আছে কিনা, বাচ্চা সুস্থ আছে কিনা, সেই খেয়াল রাখছিল ওই কিশোর। আজ, সোমবার দুপুরের পর আঁধার করে কালো মেঘ ছেয়ে যায়। সেই দেখেই বাড়িতে উদ্বেগে ছটফট শুরু করেছিল মানস। 

Advertisement

শালিকপাখির বাচ্চা ঠিক আছে কিনা, সেই দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছিল তাকে। এরপরই মুষলধারায় বৃষ্টি নামে, সঙ্গে ঝড়। বাড়ির মধ্যেই ছটফট শুরু করেছিল মানস। শালিকের বাচ্চা বৃষ্টিতে মরে যেতে পারে, সেগুলিকে বাড়ি আনতে হবে বলে বাবা-মাকে জানিয়েওছিল।

শালিকপাখির বাচ্চা ঠিক আছে কিনা, সেই দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছিল তাকে। এরপরই মুষলধারায় বৃষ্টি নামে, সঙ্গে ঝড়। বাড়ির মধ্যেই ছটফট শুরু করেছিল মানস। শালিকের বাচ্চা বৃষ্টিতে মরে যেতে পারে, সেগুলিকে বাড়ি আনতে হবে বলে বাবা-মাকে জানিয়েওছিল। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ছেলেকে বাইরে যেতে বারণ করেছিলেন বাবা দীপক ব্যাপারী। কিন্তু বৃষ্টি আরও বাড়তেই ওই পাখির বাচ্চা আনতে বাইরে এক ছুট দেয় ছেলে। সেই ছুটে যাওয়াই কাল হল। সেসময় মুহুর্মুহু বাজ পড়ছিল। তাতেই গুরুতর জখম হয় ওই কিশোর। মানসকে উদ্ধার করে জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

Advertisement
Boy killed in lightning while trying to save bird's nest in Kalyani
ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা। নিজস্ব চিত্র

কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের। দুঃসংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর দম্পতি। ঘটনার কথা শুনে হাসপাতালে ভিড় করেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরাও। তাঁরাও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ওই কিশোর এলাকায় যথেষ্ঠ পরিচিত বলেই খবর। পাখির বাচ্চা বাঁচাতে গিয়ে এভাবে মানসের প্রাণ চলে যাবে, ভাবতেই পারছেন না কেউ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.