Chairman appointed at Jhalda municipality

Jhalda Municipality: হাতছাড়া হওয়ার পরেও ঝালদা পুরসভায় তৃণমূল চেয়ারম্যান, আদালতে যাওয়ার ভাবনায় কংগ্রেস

১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জবা মাছোয়াড়কে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২২, ১২:৪১

options
link
Jhalda Municipality: হাতছাড়া হওয়ার পরেও ঝালদা পুরসভায় তৃণমূল চেয়ারম্যান, আদালতে যাওয়ার ভাবনায় কংগ্রেস

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: কংগ্রেস-সহ নির্দলের পুরপ্রধান নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধী শিবির। তৃণমূল উপ পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকার অনাস্থার তলবি সভার সাত দিন পার হওয়ার আগেই ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয় পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায়। তাই পুরবিধি মেনে রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক বিভাগ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করল। ওই পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জবা মাছোয়াড়কে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার নগরোন্নয়ন ও পুরবিষয়ক বিভাগ এই মর্মে আদেশনামা জারি করে পুরুলিয়ার জেলাশাসক রজত নন্দার কাছে পাঠিয়েছে। সেই আদেশনামার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে ঝালদা পুরসভার (Jhalda Municipality) এক্সিকিউটিভ অফিসার, নতুন চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় মন্ত্রীর কার্যালয়ে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপাল অ্যাক্ট ১৯৯৩, সাবসেকশন ৪, অফসেকশন ১৭ বিধি মেনে এই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। শুক্রবার রাতে এই বিষয়টি ঝালদা পুরশহরে চাউর হতেই বিরোধীরা জানিয়েছেন, তারা আদালতে যাবেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এদিকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর আগাম সতর্কতার মামলায় হাই কোর্টে রক্ষাকবচ পেয়েছেন ঝালদা পুরসভার ছয় বিরোধী কাউন্সিলর। এক কাউন্সিলরকে আগেই রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্ট। এই সাত বিরোধী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলায় নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। তাঁদেরকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হতে পারে এই আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ঝালদা পুরসভার চার কংগ্রেস ও দুই নির্দল কাউন্সিলর।

Advertisement

মামলাকারীর আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী জানান, গত ২১ নভেম্বর পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় তৃণমূল। অন্যদিকে, দুই নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে কংগ্রেস। নির্দলকে নিয়ে শনিবার তারা বোর্ড গঠনের প্রাক্কালে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু, মিঠুন কান্দু, বিজয় কান্দু, বিপ্লব কয়াল এবং নির্দলের শিলা চট্টোপাধ্যায় ও সোমনাথ কর্মকার। সেই মামলাতেই আদালতের নির্দেশ, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।

[আরও পড়ুন: অভিষেকের হাইভোল্টেজ সভার আগে ভূপতিনগরে বিস্ফোরণ, নিহত তৃণমূল নেতা-সহ ৩]

গত ১৩ অক্টোবর ঝালদার তৃণমূল পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন বিরোধীরা। ১২ আসনের পুরসভার পাঁচ কংগ্রেস কাউন্সিলর এবং একজন নির্দল কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ছ’জন অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। ঠিক তারপরেই পুরসভায় শাসক দল ছাড়ে তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিলা চট্টোপাধ্যায়। যিনি নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর দলত্যাগেই বদলে যায় সমীকরণ। ১২ আসনের পুরসভায় বিরোধী কাউন্সিলরের সংখ্যা বেড়ে হয় ৭। কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, পুরসভা হাতছাড়া হতে চলেছে শাসকদলের। পুরপ্রধানের পদ হারাতে চলেছে তৃণমূল। আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণও দেয় বিরোধী শিবির।

কিন্তু অনাস্থার তলবি সভায় তৃণমূল পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল অপসারিত হওয়ার সাত দিনের মধ্যেই ঘটে যায় নাটক। পুরবিধি অনুযায়ী অনাস্থার তলবি সভার সাত দিনের মধ্যে উপ- পুরপ্রধানকে পুরপ্রধান নির্বাচনের জন্য বৈঠক ডাকতে হয়। অর্থাৎ ২১ নভেম্বর তলবি সভা হওয়ায় ২৮ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত তার সময়সীমা ছিল। কিন্তু ওই দিন দুপুরে ঝালদার তৃণমূল উপ পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকার ওই পদ থেকে ইস্তফা দেন । ফলে জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে ২৯ নভেম্বর তিন বিরোধী কাউন্সিলর পুরপ্রধান নির্বাচনের জন্য ৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ শনিবার দিনক্ষণ ঠিক করেন। কিন্তু বিধি মেনে তা আর কার্যকর হল না।

[আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ, ১১ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েও পুলিশকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.