ইঞ্জেকশনের পরই শিশুমৃত্যুর অভিযোগ, কাঠগড়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স

গাফিলতির কথা স্বীকার সুপারের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯, ১৫:৫৮

options
link
ইঞ্জেকশনের পরই শিশুমৃত্যুর অভিযোগ, কাঠগড়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: নার্সের গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। মঙ্গলবার রাতে নার্স ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর রোহন হাড়ি নামে এক শিশুর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে রাতেও মৃতের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত নার্সের তর্কবিতর্কে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। বুধবার সকালে হাসপাতাল সুপারের কাছে ওই নার্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃত শিশুর পরিবার। অভিযোগ পেয়ে যথাযথ তদন্তের আশ্বাসের পাশাপাশি সুপার স্বীকার করে নিয়েছেন, হাসপাতালের কয়েকজন নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর গাফিলতির জন্য এত ভাল পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

[সামান্য বিবাদের জের, বন্ধুর হাতে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গত ২৮ জানুয়ারি সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি হয় ১ বছর ৭ মাসের শিশু রোহন হাড়ি। তার বাড়ি কাটোয়া রেল কলোনিতে। রোহনকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে এসএনসিইউ-তে ভরতি করা হয়। মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় জেনারেল বেডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই দিন রাতে ফের কাশি শুরু হয় রোহনের। পরিবার সূত্রে খবর, ১০টা নাগাদ কর্তব্যরত নার্স একটি ইঞ্জেকশন দিতে চান অসুস্থ রোহনকে। বাবা পিন্টু হাড়ি তাঁকে অনুরোধ করেন, ছেলের কাশি কমলে যেন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। নাহলে ছোট্ট রোহনের কষ্ট হবে। অভিযোগ, তাঁর কথায় আমল দেননি নার্স। তিনি ওই অবস্থাতেই রোহনকে ইঞ্জেকশন দিয়ে দেন। তারপরই ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়ে ১ বছর ৭ মাসের শিশুটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

Advertisement

                                     উত্তরে চিন্তার কারণ ‘মানুষখেকো’ চিতাবাঘ, এক সপ্তাহে খাঁচাবন্দি ৫

প্রায় চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটতে দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি পরিবারের মানুষজন। শোকাচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। সন্তানের মৃত্যুর জন্য ওই নার্সকে দায়ী করতে থাকেন। অভিযোগ, নার্সও পালটা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলতে থাকে এই বাদানুবাদ। বুধবার সকাল হতেই মৃত শিশুর পরিবার হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। কর্তব্যরত নার্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালের সুপার উৎপল দাঁ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন, ‘এই মুহূর্তে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা যথেষ্ট ভাল। অনেক দূরের মানুষজন চিকিৎসা করাতে আসছেন। তবে কয়েকজন নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর কর্তব্যে গাফিলতির জন্য পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এটা একবাটি দুধে এক ফোঁটা চোনা ফেলার মতো ঘটনা।’ নার্সের গাফিলতিতে সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বর্ধমান থানায়ও একটি অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত শিশুর পরিবার।     

ছবি: মুকুলেসুর রহমান

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন