রঞ্জন মহপাত্র, কাঁথি: পটাশপুরে স্ত্রীকে খুন করে কাটা মুণ্ডু নিয়ে রাস্তায় ঘুরেছিলেন স্বামী। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল কাঁথি মহকুমা আদালত। যাবজ্জীবনের সঙ্গে দোষীর আর্থিক জরিমানা করেছে আদালত। অনাদায়ে আরও এক বছর অতিরিক্ত কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সাজা ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভদীপ চৌধুরী।
ঘটনার ২২ মাসের মধ্যে গৌতম গুচ্ছাইতকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ঘটনায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী। গৌতম মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আদালতে জানায় তার আইনজীবী। তবে আদালতে সেই দাবি টেকেনি। সওয়াল-জবাব শুনে সাজা ঘোষণা করেন আদালত। মামলার সরকারি আইনজীবী মনজুর রহমান খান বলেন, “গৌতম মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আদালতে দাবি করে আসামীপক্ষ। আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সেই দাবি নাকচ করে। পূর্ব মেদিনীপুরে এমন জঘন্যতম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে ঘটেনি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স’ডের দিন বছর ২৬-এর স্ত্রী ফুলরানি গুচ্ছাইতকে খুন করে স্বামী গৌতম। স্ত্রীর পরকীয়া রয়েছে এই সন্দেহে তাঁকে খুন করে স্বামী। ঘটনার দিন ফুলরানি রান্নাঘরে ছিলেন, সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধড় থেকে মুণ্ডু আলাদা করে দেয় গৌতম। এরপর স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে গোটা গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। কখনও মুন্ডু হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। আবার কখনও বেঞ্চে কাটা মুন্ডু রেখে বিশ্রামও নেয় সে। হাতে ধরা ছিল রক্তমাখা কাটারি। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তড়িঘড়ি পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ এবং কাটা মুন্ডু উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ওই যুবককেও। বিচারাধীন বন্দি হিসাবে জেলেই ছিল সে। ফুলরানির ভাই প্রশান্ত দাসঅধিকারী বলেন, “বোনকে যেভাবে খুন করা হয়েছে তাতে ওর যাবজ্জীবন সাজা যথেষ্ট নয়। আমরা ফাঁসি চাই।”
সর্বশেষ খবর
-
পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচার! দুর্নীতিদমন শাখার হাতে গ্রেপ্তার দালাল, কতদূর ছড়িয়ে জাল?
-
জেরায় একাধিক অসঙ্গতি, তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার হোটেল মালিকের ছেলে
-
মুসলিমদের জন্য কেন আলাদা বেসিন! মার্কিন বিমানবন্দরের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ টেক্সসের গভর্নরের
-
আশিসের মৃত্যুর তদন্তে ফরেনসিক টিম-তৎপর সিআইডি, নজরে টিআরডিএ-র পুরনো দুর্নীতির অভিযোগও
-
‘হাম দো হামারে দো’, এবার দু’য়ের বেশি সন্তান ঠেকাতে আইন আনছে স্বাস্থ্যদপ্তর!