CPM Party Office in Bardhaman

দখলে রেখেছিল ‘কমরেড’ই! লাল ঝান্ডা নিয়ে মিছিল করে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার সিপিএমের

আর্থিক সংকট মেটাতে দলীয় কার্যালয় লিজ দিয়েছিল সিপিএম। অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরে সিপিএমের 'রবীন সেন ভবন' নামে ওই লোকাল কমিটির কার্যালয় লিজ দেওয়ার পর থেকে আর দখল ছাড়তে চাইছিল না জনৈক ব্যবসায়ী।

ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১৫:০১

options
link
দখলে রেখেছিল ‘কমরেড’ই! লাল ঝান্ডা নিয়ে মিছিল করে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার সিপিএমের
সিপিএম কার্যালয়ের সামনে দলের কর্মীরা। নিজস্ব চিত্র

আর্থিক সংকট মেটাতে দলীয় কার্যালয় লিজ দিয়েছিল সিপিএম। অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান (Bardhaman) জেলার গুসকরা শহরে সিপিএমের ‘রবীন সেন ভবন’ নামে ওই লোকাল কমিটির কার্যালয় (CPM Party Office) লিজ দেওয়ার পর থেকে আর দখল ছাড়তে চাইছিল না জনৈক ব্যবসায়ী। লাল ঝান্ডা নিয়ে মিছিল করে ওই দলীয় কার্যালয়টি পুনরুদ্ধার করল সিপিএম। ওই কার্যালয় লিজ হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী স্বপন পাল। তিনি একসময় সিপিএম পার্টিরই কর্মী ছিলেন। সেই ‘কমরেড’ই যে কার্যালয় দখল করে নেবেন! আন্দাজই করেননি স্থানীয় সিপিএম নেতারা।

Advertisement

আগামী ১২ ফ্রেবুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিপিএম। তার সমর্থনে গতকাল, শনিবার বর্ধমানের গুসকরায় দলের পক্ষ থেকে মিছিল করা হয়। ওই মিছিল গুসকরার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় লজপাড়ায় গিয়ে রবীন সেন ভবনের দখল নেন সিপিএমের কর্মীরা। সিপিএমের গুসকরা শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখ বলেন, “আমরা একসময় এই ভবনটি লিজ দিয়েছিলাম। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী দখল ছাড়ছিলেন না। তাঁকে বারবার বলা হয়েছিল। তাই আমরা দলীয় কার্যালয়ের দখল নিলাম। তবে কোনও বাধা পাইনি।”

Advertisement

অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন পাল ওই কার্যালটি লিজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ওই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সিপিএমের পক্ষ থেকে ওই কার্যালয় দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ, লিজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেটি ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না। ওই ব্যবসায়ী কার্যত সেটি দখল করে রাখা হয়েছিল! যদিও সেই অভিযোগ মানতে চাননি ওই ব্যবসায়ী। স্বপন পাল সেসময় বলেছিলেন, “এই ভবনের জায়গা দলের নামে রেকর্ড নেই। সাতজন ব্যক্তির নামে দলিল রয়েছে। যে চালকল মালিকের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছিল সেই দলিলে পার্টি অফিস বলে কোনও উল্লেখই নেই। এখনও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের রেকর্ডে চালকলের নামেই রেকর্ড রয়েছে।”

Advertisement

পাশাপাশি স্বপন পাল আরও বলেন, “২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে আমার সঙ্গে তিন বছরের লিজের বিনিময়ে চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হিসাবে তিন বছরের টাকা মিটিয়ে দিয়েছি। তারপর থেকে এযাবৎ টাকা দিইনি। আমি লিজ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। লিজের মেয়াদ বাড়ালেই বকেয়া-সহ টাকা মিটিয়ে দেব।”

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এক্ষেত্রে পাশে দাঁড়িয়েছিল। ওই কার্যালয় ফিরে পাওয়ার জন্য তাদের তরফে সিপিএমকে সাহায্য করা হবে। সেই কথাও জানানো হয়েছিল। শনিবার, সিপিএম নিজেই সেই কার্যালয় পুনরুদ্ধার করল। ওই ব্যবসায়ীর জিনিসপত্র একটি ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ব্যবসায়ী স্বপন পাল এই বিষয় নিয়ে আর বেশি কথা বাড়াতে চাননি বলেই খবর। তিনিও ওই বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.