দৌলতাবাদের দেহ দেখে আতঙ্ক, ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমোনোর সময় দগ্ধ ৩

বাস দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন কাড়ল আরও ৩ প্রাণ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮, ১২:৩৮

options
link
দৌলতাবাদের দেহ দেখে আতঙ্ক, ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমোনোর সময় দগ্ধ ৩

অতুল চন্দ্র নাগ, ডোমকল: দৌলতাবাদে সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা। বিলে বাস। মৃত্যুমিছিল। ঘটনার কয়েক দিন পর জলাশয়ে জানু শেখের দেহ ভেসে উঠেছিল। প্রতিবেশীর লাশ দেখার পর থেকে আতংকে ছিলেন জলঙ্গির বাসিন্দা জাকির হোসেন। ঘুমোনোর সময় কাউকে ডেকে নিতেন। জ্বালাতেন আলো। আর এই আলো জ্বালাতে গিয়ে বিপত্তি। মোমবাতির শিখা থেকে গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ। ঘুমের মধ্যে মারা গেলেন জাকির। সঙ্গে থাকা ভাইপো এবং ভাগ্নেও জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল।

Advertisement

জলঙ্গি আগুন

Advertisement

[পুড়ে ছাই দেবী চৌধুরানির মন্দির, আগুনের গ্রাসে ইতিহাসের স্মৃতি]

Advertisement

মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির এনায়েতপুরের এই ঘটনায় মুখে কথা হারিয়েছে জাকিরের পরিবার। একই অবস্থা প্রতিবেশীদেরও। কারণ সপ্তাহ দুয়েক আগে তাদের গ্রামের জানু শাহ বাস দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর জলে ভেসে উঠেছিল নিখোঁজ জানুর দেহ। প্রতিবেশীর এমন দুর্দশা দেখার পর থেকে কেমন যেন মনমরা হয়ে যান বছর তিরিশের জাকির। সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী বাপেরবাড়ি যান। বাড়িতে একা থাকতে চাইছিলেন না জাকির। ডেকে নেন ভাইপো শামিম শেখ (৮) ও ভাগ্নে শাহিদ মণ্ডলকে (১০)। প্রতিবেশীর মৃত্যুর পর থেকে রাতে সারাক্ষণ আলো জ্বালিয়ে রাখতেন জাকির। শুক্রবারও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু রাতের দিকে লোডশেডিং হয়ে যায়। এরপর মোমবাতি জ্বালিয়ে  ভাগ্নে ও ভাইপোকে নিয়ে শুয়ে পড়েন ওই যুবক। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে ঘরে জাকিররা ছিলেন সেখানে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। কোনওভাবে একটি সিলিন্ডারে গ্যাস লিক করে। তারপরই তীব্র আওয়াজ শুনতে পান এলাকার বাসিন্দারা। তারা গিয়ে দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখেন সব শেষ। তিনজনের অগ্নিদগ্ধ দেহ ঠিকমতো শনাক্তই করা যায়নি।

[খাদির টিউবে বন্দি হচ্ছে বাংলার মধু, সস্তায় মিলবে কাসুন্দি]

মর্মান্তিক ঘটনার পর জাকিরের বাবা মহিদুর শেখের মুখে বারবার ফিরে আসছে সদরঘাটের দুর্ঘটনার কথা। তিনি জানান, প্রতিবেশীর ওইরকম দেহ দেখার পর থেকে কেমন যেন ঘাবড়ে গিয়েছিল জাকির। ওর স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপেরবাড়ি যায়। এক রাতে এভাবে তিনটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার ঘটনা কোনওভাবে মেনে নিতে পারছে না জলঙ্গির এনায়েতপুর। একটি দুর্ঘটনার জেরে আরও এক মর্মান্তিক পরিনতিতে স্তব্ধ গোটা গ্রাম।

[শিলিগুড়িতে খুলছে পাসপোর্ট পরিষেবা কেন্দ্র, খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গে]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.