রিঙ্কি দাস ভট্টাচার্য: হেমন্তে আশা জাগিয়েও শীত কি শীতঘুমে চলে গেল? আবহাওয়ার হাবভাব তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নিম্নচাপের ধাক্কায় অগ্রহায়ণের শেষে শীতের একেবারে দফারফা অবস্থা। এক ধাক্কায় প্রায় পাঁচ ডিগ্রি বাড়ল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঠান্ডা ক্রমশ কমার পাশাপাশি শনিবার আরও গভীর আকার ধারণ করবে নিম্নচাপ। যার পরোক্ষ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে উপকূলবর্তী দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরে। এই চার রাজ্যে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
[খাদিম কর্তা অপহরণ মামলা: ৮ অভিযুক্তই দোষী সাব্যস্ত]
ভরা হেমন্তেই শীতের আঁচ টের পেয়ে গিয়েছিল কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। আবহাবিদরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, শীত পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সেইমতো আলমারি থেকে চাদর-সোয়েটার বেরিয়ে পড়তেও দেরি হয়নি। শীতের আমেজ পোহানোর জন্য মহানগর যখন সদ্য গুছিয়ে বসেছে, ঠিক তখনই ফের নিম্নচাপের ধাক্কা। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকেই ঢুকতে শুরু করেছে মেঘ। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠে যায় ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি। যেখানে বৃহস্পতিবার পারদ নেমেছিল ১৬.৫ ডিগ্রিতে।

ফলে, ডিসেম্বরের গোড়াতেই সোয়েটার-মাফলারের বদলে রাজ্যবাসী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে হালকা পোশাকে। দুপুরে ও প্রথম রাতে বহু বাড়িতে ফ্যান চলছে বনবনিয়ে। দু’বছর আগে ঠিক এই সময়ই বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘হেলেন’, ‘লহর’, ‘ম্যাডি’-র প্রভাবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই পথ হারিয়েছিল শীত। এবার নিম্নচাপের প্রভাবে শীত ডিসেম্বরের শুরুতেই খেই হারাল। এর জন্য দক্ষিণবঙ্গের আকাশে মেঘের উপস্থিতিকেই দায়ী করছেন আবহাবিদরা৷ তাদের ব্যাখ্যা, শীত পড়ার জন্য দিনের বেলায় চড়া রোদ ও পরিষ্কার আকাশ অত্যন্ত জরুরি।
[বিমানের স্বাচ্ছন্দ্য এবার ট্রেনেও, আভিজাত্যে ভর করে পৌঁছে যান বোলপুর-তারাপীঠ]
দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাক যত বাড়বে, তত জাঁকিয়ে পড়বে ঠান্ডা৷ এই প্রাথমিক শর্তটি পূরণ না হওয়ায় পরিবেশ একদম বদলে গিয়েছে৷ সাধারণত নভেম্বরের গোড়া থেকেই উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করে৷ তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রার পারদ নামতে থাকে। মেঘের আনাগোনায় টান পড়েছে উত্তুরে হাওয়া যার জেরে শহরের পাশাপাশি শহরতলির শীতের চিত্রটাও এবার বদলে গিয়েছে। শীতের চেনা ছবি কবে ফিরবে? কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের উপমহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় যা যাচ্ছে, শনিবারের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে। তবে মেঘ কাটলেই যে শীতের আবহ ফিরবে, সে বিষয়ে কোনও গ্যারান্টি এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।
[শহরে জন্ম রূপকথার ‘মৎস্যকন্যা’র, বিস্মিত চিকিৎসকমহল]
সর্বশেষ খবর
-
জীবন বিমার গুরুত্ব বুঝতে হবে পড়ুয়াদের, স্কুলে স্কুলে ‘হর ঘর বিমা’ শিবির সরকারের
-
‘লাল গড়’ যাদবপুরে অতি বামদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর, বললেন ‘প্যালেস্টাইন নয়, লিখুন পিওকে চাই’
-
‘প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপ আগে দেখিনি’, বানভাসি নেপালের জন্য চোখে জল ভূমিকন্যা মনীষা কৈরালার!
-
অশোকনগরে শুরু বাণিজ্যিক তেল উৎপাদন, শিল্প মানচিত্রে বড় বদলের সম্ভাবনা
-
দু’মাসের ইন্টার্নশিপে ৬০ লাখ, বছরে ৪ কোটি! এমন চাকরি মিলছে এদেশে, সিভি দেবেন নাকি?