Egg hurled

ছাত্রীদের হুমকি-শ্লীলতাহানির ‘শাস্তি’! ধৃত অধ্যাপকের গলায় জুতোর মালা, গা-ভর্তি ডিম

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়িতে ছাত্রীদের ডেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভূগোলের অধ্যাপক।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২৬, ২২:২১

options
link
ছাত্রীদের হুমকি-শ্লীলতাহানির ‘শাস্তি’! ধৃত অধ্যাপকের গলায় জুতোর মালা, গা-ভর্তি ডিম
শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গোবরডাঙার কলেজের অধ্যাপককে জুতোর মালা, ডিম ছোড়ার অভিযোগ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে, শুক্রবার বিকেলে। নিজস্ব ছবি

তাঁর প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। একথা কাউকে জানালে ফল হবে খুব খারাপ। এভাবেই ছাত্রীদের হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন অধ্যাপক। গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক সন্দীপ দত্তের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে শুক্রবার কলেজ চত্বরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পড়ুয়াদের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জুতোর মালা পরিয়ে দেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা, ছোড়া হয় ডিমও!

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটার চাঁদপাড়ার বাসিন্দা সন্দীপ দত্ত দীর্ঘদিন ধরে গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে ভূগোল বিভাগের অতিথি অধ্যাপক। নিজের বাড়িতেও তিনি টিউশন পড়ান। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকজন ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন সন্দীপ। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ। দুই ছাত্রীর দাবি, সম্প্রতি তাঁদেরও একইভাবে ভয় দেখিয়ে চাঁদপাড়ার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভূগোল ‘স্যর’। সেখানে তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।

Advertisement

অধ্যাপকের এহেন কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই শুক্রবার কলেজে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত অধ্যাপককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীরা। হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগও ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অধ্যাপককে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের একাংশ তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ডিম ছোড়ে বলেও অভিযোগ।এসবের মুখে পড়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক নিজের অপরাধ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

Advertisement

এনিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য গণেশ বিশ্বাসের দাবি, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীরা অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনা নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.