Midnapore Medical College

মেদিনীপুর মেডিক্যালে বারবার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ প্রয়োগে প্রশ্ন

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ একাদশ পর্ব।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১৫:৩১

options
link
মেদিনীপুর মেডিক্যালে বারবার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ প্রয়োগে প্রশ্ন
একের পর এক বিভাগ খুলে দেওয়া হলেও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়নি।

মেদিনীপুর : মেদিনীপুর মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল (Midnapore Medical College) কি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের প্রয়োগশালা! একের পর এক এ ধরনের উদাহরণ উঠে আসায় সেই প্রশ্নটাই আজ সবার মুখে। সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে ভর্তি করেন তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে। তাঁরই চোখে ধরা পড়ে হাসপাতালে তাঁর বৃদ্ধা মাকে যে স‌্যালাইন দেওয়া হয়েছে, তা মেয়াদ উত্তীর্ণ। ওই ঘটনায় ৫ জনকে শোকজও করা হয়েছে। হয়তো বা কয়েকজন আগামী দিনে সাসপেন্ডও হবেন। কিন্তু এটাই প্রথম নয়। দেড় বছর আগে একাধিক প্রসূতি রোগীকেও একইভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ স‌্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় এক প্রসূতির মৃত‌্যু পর্যন্ত হয়। তখন ১৩ জন সাসপেন্ড হলেও সময় এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনেকের সাসপেনশনও প্রত‌্যাহার হয়ে চলেছে। বিশ্বজিৎবাবুর প্রশ্ন, একবার ভয়ংকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার পুনরাবৃত্তি হয় কীভাবে?

Advertisement

জেলা শহর মেদিনীপুর। ব‌্যাঙের ছাতার মতো সর্বত্র গজিয়ে উঠেছে নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতাল। কিন্তু রাতবিরেতে শেষ ভরসা সেই মেদিনীপুর মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালই। তা সে যত বিতর্কই থাকুক না কেন। দিনে বা রাতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে নার্সিংহোম প্রত‌্যাখ‌্যাত হয়ে আসতে হয় এই হাসপাতালেই। কিন্তু সেই মেডিক‌্যালেরই পরিকাঠামো নিয়ে হাজারও অভিযোগ। একের পর এক বিভাগ বাড়লেও চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব‌্যবস্থা হয়নি। বিভিন্ন সময়ই যন্ত্রপাতি সব বিকল হয়ে পড়ে থাকে। বিভাগগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্সের অভাব থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরও অভাব আছে।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রের খবর, মেদিনীপুর মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে সরকারিভাবে বেড আছে প্রায় ৯০০। এর বাইরেও প্রায় আরও ৪০০ বেডের ব‌্যবস্থা অস্থায়ীভাবে করে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতেও স্থান সংকুলান হয় না। বাম আমলে গড়ে ওঠা এই মেদিনীপুর মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর জঙ্গলমহলের একটা বড় অংশ নির্ভরশীল। বিহার, ঝাড়খণ্ডের রোগীরাও আসেন। হাসপাতালে একাধিক বিভাগে উচ্চমানের চিকিৎসা মেলে। প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষ আসেন। রোগী ও রোগীর পরিজনদের বিশ্রাম নেওয়ার কোনও ব‌্যবস্থা নেই। চারতলা ভবন তৈরি করে ফেললেও সেখানে কোনও র‌্যাম্প নেই। দুটি লিফট ভরসা। সেগুলিও মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে থাকে। বর্ষীয়ান চিকিৎসকের কথায়, প্রতিনিয়ত দাবি মেনে একের পর এক বিভাগ খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিকাঠামোগত বা লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। (চলবে)

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.