Chopra

পরিবারের অমতে যুবককে বিয়ে, চোপড়ায় জীবিত তরুণী কন্যার শ্রাদ্ধ করলেন বাবা

একজন সাবালিকা কেন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না? সেই প্রশ্নও উঠেছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২৫, ২০:১৮

options
link
পরিবারের অমতে যুবককে বিয়ে, চোপড়ায় জীবিত তরুণী কন্যার শ্রাদ্ধ করলেন বাবা
চলছে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র

শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: পরিবারের অমতে বিয়ে করেছে মেয়ে। স্বামীর ঘর ছেড়ে আসতে বলেছিলেন বাবা-মা! মেয়ে সেই কথাও শোনেননি। সেই রাগে জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন বাবা! শুধু তাইই নয়, অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানোও হয়। হিন্দু রীতি-আচার মেনে এই অনুষ্ঠানের কথা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায়। পরিবারের অমতে কি মেয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর প্রতি এই আচরণ করতে হয়? সেই প্রশ্নও উঠেছে।

Advertisement

জীবিত তরুণী কন্যার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন একরোখা বাবা। বাড়ি থেকে পালিয়ে পরিবারের অমতে এক যুবককে বিয়ে করেছেন ওই পরিবারের একমাত্র মেয়ে। আর সেটাই যেন ‘অপরাধ’। প্রথমে মেয়েকে বাড়ি ফিরে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ভালোবাসার প্রিয় মানুষের ঘর ছেড়ে আসার ‘অন্যায় আবদার’ মানতে চাননি নব বিবাহিতা তরুণী। আর তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তরুণীর বাবা ও অন্যান্য সদস্যরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শনিবার হোলির দুপুরে মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হল। এ হেন বিরল আয়োজনের সাক্ষী থাকলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সোনাপুরহাট এলাকার কয়েকশো গ্রামবাসী। ঘটনা জানাজানি হতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু এত রূঢ় সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল? ওই পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, বাবার সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ির একমাত্র কন্যা বিয়ে করেছে। তাই তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। মেয়ের বাবা-মা মনে করেন, তাঁদের মেয়ে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছে। তাই মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মধ্যের শান্তির প্রার্থনা করেন। পরিবারের তরফে মেয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেন।

Advertisement

পরিবারের সদস্যরা দস্তুরমত হিন্দু রীতি আচার মেনে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পুরোহিত মন্ত্রপাঠের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে হাজির থাকা, আত্মীয়স্বজন সব গ্রামবাসীদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বর্ষীয়ান শিশুলাল সিংহ আক্ষেপ করে বলেন, “আগামীতে যাতে আর কেউ বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে না করেন, সেজন্যই এই শ্রাদ্ধশান্তির আয়োজন।” তবে একজন সাবালিকা কেন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না? সেই প্রশ্নও উঠেছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন