Mahua Moitra

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ! মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে থানায় বিজেপি নেতা

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত।

Advertisement
রমণী বিশ্বাস
রমণী বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬, ১৭:৫০

options
link
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ! মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে থানায় বিজেপি নেতা
ফাইল ছবি।

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ বিজেপির। আর এই মর্মে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক বিজেপি নেতা। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৫০)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়ায় নদিয়ার করিমপুরে। এরপরেই এহেন অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement

অভিযোগের মূল উৎস গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে মহুয়া মৈত্রের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের একটি ভিডিও পোস্ট। সেখানে তিনি বলেন ​”রাজ্য সরকারের গোহত্যা সম্পর্কে নির্দেশিকা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। একটা শ্রেণীকে খুশি করতে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ। যে কারণে এলাকার গোহাটগুলিতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামে গঞ্জে যেখানে পশুহাট আছে সেখানে একটা আতঙ্কের পরিবেশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের মধ্যে ভয় ঢুকেছে যে, এই ব্যবসা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হতে চলেছে।” পোস্টে তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে গোমাংস রপ্তানি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। এমনকি বিদেশে মাংস রপ্তানিকারী এক বাণিজ্যিক সংস্থার কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা নেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেক্ষেত্রে কোনও দোষ না হলে, সাধারণ মানুষের গরু কেনাবেচার ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে সরকার কী প্রমাণ করতে চাইছে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
অভিযোগের কপি।

সাংসদের এই পোস্টের তীব্র বিরোধিতা করে করিমপুর বিধানসভার মণ্ডল ৩-এর সহ-সভাপতি গোলক বিশ্বাস করিমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গোলক বাবুর দাবি, সরকারি নির্দেশিকায় কোনও বিশেষ শ্রেণি বা সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়নি। মহুয়া মৈত্র সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চাইছেন বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার।

Advertisement

এই বিষয়ে করিমপুরের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ সাংসদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ​”নির্দেশিকার কোথাও পশু হাট বন্ধ বা কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার কথা বলা নেই। উনার এই মন্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্দেশ্যমূলক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রুখতেই সরকার এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। অতীতে অনুব্রত মণ্ডলের মতো তৃণমূল নেতারাও এই পাচার মামলায় জড়িয়েছেন। সাংসদের এই মন্তব্য সীমান্ত অঞ্চলের গরু পাচারকারীদের মদত দেওয়ার শামিল।” বিধায়ক আরও অভিযোগ তোলেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরণের আন্তর্জাতিক চোরাকারবারে মহুয়া মৈত্রের কোনও ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা পুলিশ ও প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

ঘটনার জল অবশ্য আরও গভীরে। জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৯ তারিখে বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস নিজেই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— “করিমপুর এরিয়াতে যে ব্যক্তি কালনাগিনী মহুয়াকে জমি বা বাড়ি ভাড়া অথবা বিক্রি করবে, তাকে এলাকার চরম শত্রু বলে চিহ্নিত করা হবে।” এই পোস্টের বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্র আগেই করিমপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তারই পাল্টা হিসেবে গোলক বিশ্বাসের দাবি, মহুয়া মৈত্র দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনকি বাড়িভাড়া নিয়ে স্থানীয় মালিকের সঙ্গেও তিনি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।

এই পুরো অভিযোগ প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্রের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। তবে এই ঘটনায় কিছুটা অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও নেতার মতে, এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সাংসদের এই ধরণের মন্তব্য এড়িয়ে চলাই শ্রেয় ছিল। কারণ এর ফলে সাধারণ কর্মীদের ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আপাতত করিমপুর থানায় দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশ রীতিমতো তপ্ত। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন