বঙ্গভোটের আগেই টিকিট না পাওয়ায় ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছিলেন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম (Manirul Islam)। ভোটের বঙ্গে গেরুয়াঝড় উঠতেই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) স্তুতি শোনা গেল প্রাক্তন তৃণমূল নেতার গলায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তাহলে এবার বিজেপির পথে মনিরুল! এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও মনিরুল শুধু জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পথ খুব শীঘ্রই তিনি জানিয়ে দেবেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সম্পূর্ণ উলাটপুরান হয়! তাঁকে প্রার্থী না করে সামশেরগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করে তৃণমূল। যদিও তিনি পরাজিত হন। শুধু তাই নয়, একুশের নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল প্রথম স্থানে ছিল, এবারের নির্বাচনে তারা একেবারে তিন নম্বর স্থানে নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত, ফরাক্কা আসনে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন মোতাব শেখ। এরপরেই রবিবার নিউ ফরাক্কায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মনিরুল। সেখানেই তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কৃতজ্ঞতা জানান।
মনিরুল বলেন, ”রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি, কাটমানি, দাদাগিরির বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবাংলা তৈরি হতো। সম্মান নেই, আর তৃণমূল কংগ্রেস দল করব না।” প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরও বলেন, ” চলতি বছরের ১৭ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে আমাকে বাদ দিয়ে সামশেরগঞ্জ থেকে একজনকে নিয়ে এসে ফরাক্কা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। যদিও সেই প্রার্থীকে ফরাক্কার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তারপরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি, আমিও তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আসলে আমি তৃণমূল দল ছাড়িনি, তৃণমূল দলই আমাকে ছেড়ে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে মনিরুল ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা করতে এসে তাঁকে কড়া বার্তা দিয়ে যান। এমনকি তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় নিজের পুরনো অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছিলেন মনিরুল। যদিও এদিন মনিরুল সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৃণমূল দল আর করবেন না। ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক আরও বলেন, ”যে দলে আমার কদর, সম্মান এবং ইজ্জত নেই সেখানে আমি আত্মসম্মান বলিদান দিয়ে থাকতে পারিনা। প্রত্যেকেরই নিজস্ব মান সম্মান রয়েছে। তাই আমার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমি নতুন করে নিজের রাজনৈতিক চলার পথ ঠিক করব।”
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মনিরুল বলেন, ”ওই দলে একনায়কতন্ত্র চলে। দলের রাজ্য এবং জেলা কমিটি আছে কি নেই তা আমার জানা নেই। ওই দলে একজনই সব সিদ্ধান্ত নেয়। দলের প্রার্থী ঠিক করা নিয়ে ছেলেখেলা করতে গিয়ে ৭৪ জন বিধায়ককে উনি টিকিট দেননি এবং ১৫ জন বিধায়কের আসন পরিবর্তন করেছেন। তৃণমূল দলের মধ্যে এই রাজতন্ত্র এবং জমিদারি প্রথা আমি মানি না।” তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মনিরুল বলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার এখনও অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমার পক্ষে তৃণমূল দল করা সম্ভব নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো পশ্চিমবঙ্গকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি অবাধে লুটতরাজ, সিন্ডিকেটরাজ চালিয়েছেন। মানুষকে সম্মান দেননি। তাই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমি দলদাস হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করতে পারব না। আমি আমার অনুগামী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছি। আগামী দিন কী সিদ্ধান্ত নেব শীঘ্রই জানিয়ে দেব।”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর



