SSC Group C Exam

চাকরির লড়াইয়ে প্রযুক্তির ফাঁদ! গ্রুপ সি পরীক্ষায় মোবাইল, ব্লুটুথ-সহ গ্রেপ্তার ৪ পরীক্ষার্থী

এসএসসি-তে পশ্চিমাঞ্চলে ৪৭,১৩৮ জন পরীক্ষার্থী গ্রুপ সি পরীক্ষায় বসেছেন। বেআইনিভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘটনা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

টিটুন মল্লিক
টিটুন মল্লিক

শেষ আপডেট: মার্চ ১, ২০২৬, ২০:৩৫

options
link
চাকরির লড়াইয়ে প্রযুক্তির ফাঁদ! গ্রুপ সি পরীক্ষায় মোবাইল, ব্লুটুথ-সহ গ্রেপ্তার ৪ পরীক্ষার্থী
গ্রুপ সি পরীক্ষায় প্রযুক্তির 'ফাঁদে' পড়ে গ্রেপ্তার ৪ পরীক্ষার্থী। ছবি: AI দ্বারা নির্মিত

তুমুল প্রতিযোগিতার বাজারে চাকরির লড়াইয়ে জিততে অবৈধভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার। আর সেই ফাঁদে পড়ে এসএসসি গ্রুপ সি পরীক্ষায় (SSC Group C Exam) পশ্চিমাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার হলেন চার পরীক্ষার্থী। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ও ব্লুটুথ ডিভাইস। বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর ও খাতড়া – তিন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় পড়েছে। জানা যাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি মালদহে, দু’জন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। রবিবার পশ্চিমাঞ্চলে ১০৫টি কেন্দ্রে মোট ৪৭ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসির গ্রুপ সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, অবৈধভাবে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

Advertisement

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে খাতড়ায়। কংসাবতী শিশু বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধরা পড়েছেন মনোজিৎ সরকার, বাড়ি মুর্শিদাবাদে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শনিবার রাতেই কোনওভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক নিজের ব্যবহারের উপযোগী করে সাজিয়ে রেখেছিল সে। রবিবার পরীক্ষা চলাকালীন সেই ডিভাইস ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। কেন্দ্রের এক কর্তা বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। নিরাপত্তা ভেদ করে আগের দিন কেন্দ্রে ঢোকা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।” ঘটনার পরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

Advertisement

বড়জোড়ায় ধৃত পুলক সরকার, বাড়ি মুর্শিদাবাদ। পরীক্ষার মাঝপথে তাঁর আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস। অভিযোগ, ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে বাইরে থেকে সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। বিষ্ণুপুরে রামানন্দ কলেজ কেন্দ্রে ধরা পড়েছেন রিয়াজুল সরকার ও অজিত সরকার নামে দুই পরীক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের বাড়িই মালদহ জেলায়। তাঁদের কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ও ব্লুটুথ ডিভাইস। প্রাথমিক তদন্তে দেখা হচ্ছে, চারটি ঘটনাই কি কোনও বৃহত্তর চক্রের অংশ, নাকি পৃথক উদ্যোগে জালিয়াতির চেষ্টা।

Advertisement

কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি, ফ্রিস্কিং ও উড়ন্ত স্কোয়াড মোতায়েন ছিল। তবু কীভাবে ডিভাইস ভিতরে ঢুকল, কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক – তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের প্রার্থীপদ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরীক্ষায় বসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। চাকরির কঠিন প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর ভিড়ে চারজনের এই শর্টকাটের চেষ্টা ফের প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ্যে নিয়ে এল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের সাফ বার্তা, “পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও আপস নয়।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.