পিকনিক করতে গিয়ে এক্সাইড কর্তার রহস্যমৃত্যু, ধৃত চার সহকর্মী

পেশাগত শক্রতায় খুন, অনুমান পুলিশের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৮, ২০:০১

options
link
পিকনিক করতে গিয়ে এক্সাইড কর্তার রহস্যমৃত্যু, ধৃত চার সহকর্মী

সোমনাথ পাল, বনগাঁ: সহকর্মীদের সঙ্গে পিকনিক করতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন এক্সাইড কর্তা অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ। ধৃতের সকলেই মৃতের সহকর্মী। তাঁদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি বনগাঁয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন প্রথমে বনগাঁয় এক সহকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। সেখান থেকে আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পিকনিক করতে যান গাইঘাটায়।

Advertisement

[ এমএ পাশ করেও মেলেনি চাকরি, কেরলে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু যুবকের]

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ফ্ল্যাটে স্ত্রী, ছেলে ও বাবা-মাকে নিয়ে সংসার। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে এক্সাইড ব্যাটারি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার হয়েছিলেন বছর চৌত্রিশের অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রীও চাকরি করেন রাষ্টায়ত্ত ব্যাংকে। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সোমবার  সহকর্মীদের সঙ্গে গাইঘাটার সোনাটিকাটি গ্রামে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। দিনভর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সন্ধ্যেবেলায় বাড়িতে ফোন করে এক সহকর্মী জানান, হাসপাতালে ভরতি অর্ঘ্য। খবর পাওয়া পর তড়িঘড়ি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর পরিবারের লোকেরা। কিন্তু, ততক্ষণে মারা গিয়েছে এক্সাইড কোম্পানির ওই পদস্থ আধিকারিক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের মনে হয়েছিল, মদ্যপ অবস্থায় নৌকা চড়তে গিয়েই নদীতে পড়ে যান অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। কিন্তু দুর্ঘটনার তত্ত্ব মানতে নারাজ মৃতের পরিবারের লোকেরা। মঙ্গলবার গাইঘাটা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

Advertisement

অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের লোকেদের বক্তব্য, তিনি সাঁতার জানতেন। তাহলে কীভাবে জল ডুবে মারা গেলেন? তাঁদের অভিযোগ, দিন কয়েক আগে মণীশ নামে এক সহকর্মীকে টপকে এক্সাইড ব্যাটারি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার হয়েছিলেন অর্ঘ্য। তাঁকে পিকনিকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছেন মণীশই। এদিকে বনগাঁ হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার পরই মৃতদেহ নিয়ে কয়েকজন মদ্যপ যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, হাসপাতালের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে ফেলেন। ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক-সহ তিনজনকে আটকও করে গাইঘাটার থানার পুলিশ। ফলে অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।

[ বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি]

বুধবার অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়কে খুনের অভিযোগে মনীশ দাস, অলোক চক্রবর্তী, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সকলেই মৃতের সহকর্মী। শুভাশিস ও ইন্দ্রজিতের বাড়ি বনগাঁয়। ঘটনার দিন প্রথমে বনগাঁয় এক সহকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। সেখান থেকে গাইঘাটায় পিকনিক করতে যান তিনি। মণীশের সঙ্গে আবার মনোমালিন্যও চলছিল অর্ঘ্যের।

[বিডিও-র উদ্যোগে কুশমণ্ডিতে গড়ে উঠল আদর্শ গ্রাম]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.