কবিগুরুর মূর্তিতে মদ ঢেলে স্নান করাল দুষ্কৃতীরা, নিন্দার ঝড়

বিসর্জনের শোভাযাত্রায় একের পর এক মাত্রাছাড়া বিশৃঙ্খলা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৭, ০৬:২১

options
link
কবিগুরুর মূর্তিতে মদ ঢেলে স্নান করাল দুষ্কৃতীরা, নিন্দার ঝড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ভাড়া করা বার ডান্সারের উদ্যাম নৃত্যের পর এবার কবিগুরুর মূর্তিতে মদ ঢেলে দেওয়া! বিসর্জন ঘিরে একের পর এক মাত্রাছাড়া বিশৃঙ্খলার ঘটনা সামনে আসায় বিড়ম্বনায় আলিপুরদুয়ার শহর। শহরের সংস্কৃতি কালিমালিপ্ত হয়েছে বলে সরব হয়েছেন শহরের বিশিষ্টরা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিও উঠেছে নানা মহল থেকে। তবে এখনও বিষয়টি নিয়ে পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলার পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ। শুধু জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে এই ধরনের কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

Advertisement

[পাহাড়ে বেধড়ক মার খেলেন দিলীপ ও তাঁর সঙ্গীরা, সদলবলে থানায় আশ্রয়]

আলিপুরদুয়ার শহরের মাধবমোড়ে বসানো রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি। অভিযোগ, মঙ্গলবার বিসর্জনের শোভাযাত্রার সময় সেখানে কার্যত বেলেল্লাপনা করে কিছু মদ্যপ যুবক। কবিগুরুর মূর্তিতে এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুসি চলতে থাকে। মূর্তির বিভিন্ন অংশ ভাঙার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। কিন্তু তার চেয়েও মারাত্মক অভিযোগ, মদ ঢেলে মূতিকে স্নান করানো হয়। তবে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও কিশোর এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই মত্ত যুবকরা পালিয়ে যায়।

Advertisement

এদিকে এই ঘটনার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরই তীব্র সমালোচনা শুরু হয় নানা মহলে। আলিপুরদুয়ার অভিভাবক মঞ্চের সম্পাদক ল্যারি বোস বলেন, “মঙ্গলবার রাতেই ঘটনার সময় কিছু স্থানীয় যুবক আমাকে ফোন করে। আমি তাদের প্রতিবাদ করতে বলি। প্রতিবাদ করায় ওই মত্ত যুবকের দলটি পালিয়ে যায়।” আর এই ঘটনার ছবি তুলেছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকম এক ব্যক্তি বলেন, “মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। সেই সময় ওই এলাকায় কোনও বিসর্জনের শোভাযাত্রা ছিল না। চার—পাঁচ জন যুবকের একটি দল কবিগুরুর মূর্তির উপর হামলা চালায়। আমরা শহরের বিশিষ্টদের কয়েকজনকে ফোনও করি। আমরা তাড়া করেও ওই মত্ত যুবকদের ধরতে পারিনি।”

Advertisement

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে খবর মিলেছে, আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতায় অবস্থিত পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনে কর্মরত যুবকরা এই অভব্যতা করেছে। ওই যুবকরা পাঞ্জাব ও অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তারা আলিপুরদুয়ারে থাকে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছে। ঘটনায় আলিপুরদুয়ারের বিশিষ্ট শিক্ষক কনৌজবল্লভ গোস্বামী বলেন, “শহরে বিভিন্ন মনীষীর মূর্তিগুলি অসংরক্ষিত খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। যা যথেষ্ট দৃষ্টিকটু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে হামলাকারীদের শাস্তি হওয়া দরকার।”

[গদ্দাররাই এমন আচরণ করে, নাম না করে মুকুলকে আক্রমণ পার্থর]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.