Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
Safed Sagar Amrita Bagchi

উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা দেখার নেশা, বাংলায় সুযোগের অপেক্ষায় সৃজিত-কৌশিক ভক্ত অমৃতা

'অপারেশন সফেদ সাগর'-এ অজয় আহুজার স্ত্রী 'অলকা আহুজা'র চরিত্রে সিদ্ধার্থের বিপরীতে নজর কেড়েছেন বাঙালি কন্যা অমৃতা বাগচী।

শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:২৩

link
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:২৩

options
link
উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা দেখার নেশা, বাংলায় সুযোগের অপেক্ষায় সৃজিত-কৌশিক ভক্ত অমৃতা zoom
অমৃতা বাগচী। ইনস্টাগ্রাম
Advertisement

‘অপারেশন সফেদ সাগর’ নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার পরেই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা অর্জন করে। স্বাধীনতার আবহে মুুক্তি পেলেও কারগিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের এই সিরিজ দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছে এখনও। এখানেই স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ। তাঁর স্ত্রী অলকা আহুজার চরিত্রে রয়েছেন বাঙালিনী অমৃতা বাগচী। যিনি গ্রাফিক ডিজাইনার, ইলাস্ট্রেটর হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন।

এনআইডি-তে পড়াশোনা। পরবর্তীকালে অভিনয়ে আসেন। অনুরাগ বসুর ‘টেগর স্টোরিজ’-এ ‘স্ত্রীর পত্র’-তে মৃণালের চরিত্রে তাঁকে পেয়েছে দর্শক। এছাড়া ‘দ্য মিউজিক টিচার’, ‘হাসমুখ’, ‘সিটি অফ ড্রিমস’ ও গুজরাতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবিতেও কাজ করেছেন। লেখক হিসেবেও তিনি বেশ কিছু ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নিজে শর্ট ফিল্মও করেছেন। এই অমৃতার কলকাতা-কানেকশন জোরালো। শুরুর দিকের পড়াশোনা শান্তিনিকেতনে। তবে ২০০৪ সাল থেকে তিনি কলকাতার বাইরে।

Advertisement
অমৃতা বাগচী

ফোনে বলছিলেন, ‘বম্বেতে প্রায় ১৪ বছর। আমার বাবা কলকাতায় থাকেন। বছরে দু’ একবার যাই।’ সিদ্ধার্থর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? জিজ্ঞেস করতে জানালেন, ‘খুব ভালো। হেল্পফুল সহ-অভিনেতা। ওঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ অন্যভাবে হয়েছে। আমার একটা শর্ট ফিল্ম দেখতে এসেছিল সিদ্ধার্থ এবং অদিতি, আরও অনেকে। তখন আলাপ হয়েছিল। ওটায় আমার মেন্টর ছিলেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে।’

সিরিজের পরিচালক অনি সেনের সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে? ‘অনি আমার কলেজের সুপার সিনিয়র। আমি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউ অফ আমেদাবাদ-এ পড়াশোনা করেছি। আমি যখন কলেজে পড়তাম অনি পড়াতে আসত। তখন থেকে আমি অনিকে চিনি। কিন্তু অনি আমাকে চিনত না। ২০১৯-এ একটা অডিশন দিয়েছিলাম। সেটা অলমোস্ট হতে হতে হয়নি প্যান্ডেমিকের জন্য। দীপক আগরওয়াল নামে একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আছেন। ওঁর ওই অডিশনটা মনে ছিল। উনি অডিশনটা অনিকে দেখিয়েছিলেন ২০২৪ সালে। আর বলেছিলেন, আমি একে ‘অলকা’র জন্য টেস্ট করতে চাই। তো আমায় ডিরেক্টলি অফিসে ডেকে অনি আর অভিজিতের (সিরিজের লেখক) সঙ্গে কথা বলায়। তারপরে আমি অডিশন ম্যাচ বক্সের অফিসেই করেছিলাম।’ বললেন অমৃতা।

এখন সাড়া কেমন, জিজ্ঞেস করাতে অভিনেত্রীর উত্তর, ‘অলকা চরিত্রের জন্য আমি প্রচণ্ড ভালোবাসা আর সহানুভূতি পাচ্ছি। আমার কখনও কখনও মনে হচ্ছে অলকার পাওনাটাও আমার দিকে চলে আসছে। এটা ওঁর গল্প। ওঁর সঙ্গে আমি দেখা করেছি। কথা বলে মনে হয়, ওঁর যে সহনশীলতা আর শক্তি একটা পারফরম্যান্সে ধরা যায় না। পঁচিশ বছর ধরে এই যন্ত্রণা নিয়ে থাকা। ওঁর ছেলে ইউএসএ-তে থাকেন। উনি আমাকে মেসেজ করেছিলেন। আমার মনে হচ্ছে এই পুরো ভালোবাসাটা ওঁর পাওনা। আই অ্যাম ভেরি লাকি যে এটার একটা টুকরো আমার দিকে এসেছে।’

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Netflix India (@netflix_in)

ভিস্যুয়াল আর্টিস্ট থেকে অভিনয়ের দিকে যে চলে গেলেন কীভাবে? অমৃতা বলছেন, ‘গ্র্যাজুয়েশনের পর বম্বেতে ফ্রিল্যান্স করছিলাম, অ্যাজ গ্রাফিক ডিজাইনার, ইলাস্ট্রেটর। তখন আমি কিছু থিয়েটারে স্টেজ ডিজাইন করি। যেমন নাসিরউদ্দিন শাহর ‘মোটলে’ থিয়েটার গ্রুপ আছে। ওদের জন্য কিছু সেট বানিয়েছি। অতুল কুমারের জন্য কিছু সেট বানিয়েছি। এরকম আমি অল্প স্বল্প সেট ডিজাইনের কাজ করতাম। এনআইডি-র আগে এক বছর শান্তিনিকেতনে কলা ভবনে পড়েছি। তারপরে এনআইডি জয়েন করি। কলা ভবনে যেরকম কালচার আর কি, লোকসংগীত গাওয়া, রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া এগুলো ছিল।’

তাই কি বাংলা এত মসৃণ? হাসতে হাসতে অমৃতা বললেন, “আমার মা, বাবা ছোটবেলা থেকে বলেছিলেন, স্কুলে হিন্দি আর ইংরেজি পড়বে কিন্তু বাড়িতে বাংলা। কারণ বাংলা সাহিত্য পড়া মাস্ট। ‘গীতবিতান’, ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’ এগুলো পড়তে হবে। এখনও শারদীয়া পুজোসংখ্যা পড়ি। বম্বেতে যখন আমি স্টেজ ডিজাইন করতাম, কিছু লোক জানত যে আমি গান করি। মানব কল তখন একটা নাটক করছিলেন, ‘কালার ব্লাইন্ড’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পোকে নিয়ে। কালকি ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পোর রোল করেছিলেন। আর সানন্দ কিরকিরেও ছিলেন। মানব কল তখন বাঙালি মেয়ে খুঁজছেন, যে গান করতে পারে। আমি ওটায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব প্লে করেছিলাম। ওটা আমার প্রথম নাটক বম্বেতে। চিত্রাঙ্গদা শতরূপা, অবন্তিকা গঙ্গোপাধ্যায়ও যুক্ত ছিল। খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা। তারপরে একটা নাটক থেকে আরেকটা নাটক হয়ে যায়।”

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Amrita Bagchi (@amrita.bagchi)

বাংলায় ভালো কাজের সুযোগ পেলে করতে চান অমৃতা। ছোটবেলা থেকে ভানু গঙ্গোপাধ্যায়, জহর রায়, উত্তম কুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেনের সিনেমা দেখার অভ্যেস রয়েছে। এখনকার বাংলা ফিল্ম দেখেন। তবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবি বেশি দেখা হয়। কথায় কথায় উল্লেখ করেন, ‘দোস্তজি’-র কথা। বললেন, ‘কলকাতায় খুব ভালো ভালো ফিল্মমেকার কাজ করছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ওঁদের ছবিগুলো আমার খুব ভালো লাগে। সৃজিতদা তো আছেনই।’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.