Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
Clean Up Company Review

আলাদা হতে চেয়েও আটকে গেল চেনা ছকেই! কেমন হল বাঙালি তারকাখচিত ‘ক্লিন আপ কোম্পানি’?

রোহন ঘোষের 'ক্লিন আপ কোম্পানি'-তে একাধিক বাঙালি অভিনেতার উপস্থিতি, তবে নজরকাড়া যিশু সেনগুপ্ত। লিখছেন দেবত্রী ঘোষ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৩

options
link
আলাদা হতে চেয়েও আটকে গেল চেনা ছকেই! কেমন হল বাঙালি তারকাখচিত ‘ক্লিন আপ কোম্পানি’? zoom
ক্লিন আপ কোম্পানি। সোশাল মিডিয়া
Advertisement

যে কোনও এলাকার ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ মানেই তাদের ঝুলিতে থাকবে বেআইনি কাজ আর অপরাধের লম্বা তালিকা। রাজনীতির সঙ্গে অন্ধকার জগতের এই ওতপ্রোত জড়িয়ে থাকা নতুন নয় এফাটাই দর্শক বছরের পর বছর দেখে এসেছে সিনেমা ও সিরিজে। রোহন ঘোষের ‘ক্লিন আপ কোম্পানি’ একই বাঁচের গল্প বেছে নিলেও অভিমুখটা খানিক আলাদা রাখতে চেয়েছেন পরিচালক।

আমাজন প্রাইম এম এক্স প্লেয়ারে আট এপিসোডের এই সিরিজে, তিনি গল্পের কেন্দ্রে রেখেছেন তিন বন্ধুকে গোল্ডি (অজিতেশ গুপ্তা), রাজু (বিশাল জেঠওয়া), আর স্বপন (অমেয় ওয়াঘ)। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা, বা নিজের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অবহেলিত হওয়া এই তিন যুবক একে অপরের হরিহর আত্মা। সরিবগঞ্জ নামে বাংলার এক কাল্পনিক মফস্সলের বাসিন্দা হলেও, গোল্ডির স্বপ্ন, কলকাতায় গিয়ে নিজের গানের অ্যালবাম বের করা, স্নাতক স্বপন চায় পরীক্ষা দিয়ে সরকারি কর্মচারী হতে, আর রাজুর ইচ্ছে অনেক টাকা রোজগার করা।

Advertisement
ক্লিন আপ কোম্পানি

কিন্তু সরিবগঞ্জ যে সে জায়গা নয়। সেখানে গোলাগুলি, বোমাবাজি লেগে থাকে নিত্য।। সেখানকার এমএলএ সীতেশ বর্মন বা মেজদা (যিশু সেনগুপ্ত) ইলেকশন জিতে এমপি হতে চায়। গোটা সরিবগঞ্জ তাকে মেনে চলে, ভয় পায় (পুলিশ, পোষা গুন্ডার দল দুই-ই)। গুন্ডাদের খুনোখুনির মাঝে আচমকাই জড়িয়ে পড়ে এই তিন বন্ধু যখন মৃত মানুষদের লাশ সাফাইয়ের দায়িত্ব হঠাৎ ঘাড়ে এসে পড়ে। প্রথমে ভয় পেলেও, ক্রমে বুঝতে পারে এই কাজ করলে ভালো রোজগার করতে পারবে অল্প সময়েই, আর সেই টাকা দিয়ে নিজেদের স্বপ্নপূরণ করা যাবে অনায়াসে।

শুরু হয় তাদের লাশ সাফাইয়ের স্টার্ট আপ (স্বপনের ভাষায়) ‘ক্লিন আপ কোম্পানি হর খুন সাফ’। কিন্তু অপরাধ জগৎ সম্পর্কে বিশেষ ধারণা না থাকায় তিন বন্ধুর অনেকটা দেরি হয়ে যায় এটা বুঝতে যে এই জগতে প্রবেশের ছাড়পত্র থাকলেও বেরনোর অনুমতি নেই। তিন বন্ধুর চোখ দিয়ে অপরাধ জগতকে দেখা এবং তাদের বেঁচে থাকার লড়াই হলে এই গল্প অন্যান্য ছকে ফেলে দেওয়া ক্রাইম ড্রামার থেকে দিব্য আলাদা হতে পারত। কিন্তু ঋতর্ষি দত্ত ও কোনারক মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রোহন ঘোষের লেখা চিত্রনাট্য গ্যাং ওয়ার, রাজনৈতিক খুনোখুনি, চোর-পুলিশ আর ক্ষমতার প্রদর্শনেই আটকে রইল।

নতুন সিরিজে যিশু ম্যাজিক

প্রচুর সাবপ্লট জুড়তে গিয়ে গল্পের খেই হারিয়ে তো গেলই, সেই সঙ্গে এত রক্তারক্তি একটা সময়ে ক্লান্তিকর ঠেকল। এমনকী, গানের ব্যবহার ও সেট ডিজাইনও বিশেষ উচ্চমানের নয় এখানে। গল্পের দিকটা দুর্বল হলেও, এই সিরিজের জোরাল দিক অভিনয়। মিতভাষী অথচ বদরাগী মেজদার চরিত্রে সবচেয়ে ভালো লাগে যিশু সেনগুপ্তকে। তিন বন্ধুর চরিত্রে অজিতেশ ও অম্যোকে বিশ্বাসযোগ্য লাগলেও, সবচেয়ে সার্থক অভিনয় বিশাল জেঠওয়ার। এস পি ইন্দ্রনাথের চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় দৃঢ়। তুহিনা দাস তাঁর চরিত্রে মানানসই।

এ ছাড়াও রিশ লাম্বা ও সিদ্ধি পোদ্দার মন দিয়ে অভিনয় করেছেন। গোটা সিরিজে রবি কিষেনের উপস্থিতি খুব সামান্য হলেও তা ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। দ্বিতীয় সিজন এলে, তাঁকে আরও বেশি করে পাওয়া যাবে হয়তো। তবে বাজার-চলতি ক্রাইম ড্রামার এতই ছড়াছড়ি যে নানা ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই একই গল্প দর্শক বারবার কেন দেখবেন, সেটাই প্রশ্ন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.