TMC

তৃণমূল কার্যালয়ে বস্তা বস্তা সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র! চাঞ্চল্য কাটোয়ায়

মাজিগ্রামে বিজেপির বেশকিছু কর্মী সমর্থক এসে ওই পার্টি অফিসের তালা ভেঙে নতুন একটি তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁরা চাবি তুলে দেন অনুপের হাতে। এদিন অনুপ ঘর পরিষ্কার করতে এলে উদ্ধার হয় ওই বস্তাগুলি।

ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: মে ১২, ২০২৬, ১৭:১৩

options
link
তৃণমূল কার্যালয়ে বস্তা বস্তা সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র! চাঞ্চল্য কাটোয়ায়
উদ্ধার হওয়া আবেদনপত্র।

বিজেপির এক অঞ্চল স্তরের নেতার দোকান দখল করে পার্টি অফিস বানায় তৃণমূল! বিজেপি জিততেই গ্রামবাসীদের সাহায্যে উদ্ধার করেন ওই কর্মী। সেই ঘর পরিষ্কার করার সময় চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। উদ্ধার হল রাশি রাশি নথিপত্র। দেখা যায় প্রায় পাঁচ বস্তা ওই নথিপত্রগুলি বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রকল্পের আবেদনের জন্য পূরণ করা ফর্ম। ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়ার মাজিগ্রামে। উদ্ধার হওয়া ওই আবেদনপত্রগুলি অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের আবেদনপত্র। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

Advertisement

মাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের কাছে যে জায়গার উপর তৃণমূলের কার্যালয়টি ছিল সেই জায়গায় আগে অনুপ চৌধুরীর একটি দোকানঘর ছিল। মাটির দেওয়াল ওই দোকানঘরে অনুপ জুতো, কাপড় ইত্যাদি বিক্রি করতেন। তিনি বলেন, “প্রায় ৩০ বছর আগে মাজিগ্রামে মল্লিকপুকুর পাড়ে ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ১৮ ফুট চওড়া এই জায়গাটি স্থানীয় একটি পরিবারের কাছে আমি কিনেছিলাম। তারপর দোকানঘর তৈরি করে ব্যবসা করতাম। দোকানঘরেই থাকতাম। ২০১৩ সালে দুর্ঘটনায় দাদা মারা গেলে আমি কিছুদিনের জন্য বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন তৃণমূলের লোকজন আমার দোকানঘর ভেঙে দিয়ে জোর করে পার্টি অফিস তৈরি করে। আমি তৃণমূল নেতাদের হাতে পায়ে ধরেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার জায়গা ফেরত দেয়নি।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভোটের ফল ঘোষণার পরেই তৃণমূল কার্যালয়ে তালা পড়ে যায়। পরেরদিন অনুপের প্রতিবেশীরা থেকে শুরু করে মাজিগ্রামে বিজেপির বেশকিছু কর্মী সমর্থক এসে ওই পার্টি অফিসের তালা ভেঙে নতুন একটি তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁরা চাবি তুলে দেন অনুপের হাতে। এদিন অনুপ ঘর পরিষ্কার করতে এলে উদ্ধার হয় ওই বস্তাগুলি। তখন দেখা যায় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের রাশিকৃত পূরণ করা ফর্ম পড়ে রয়েছে তৃণমূল কার্যালয়ে। যেগুলির অধিকাংশই ২০২০-২১ সালে জমা নেওয়া বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা বারবার ফর্ম জমা নিয়েছে। আর সেগুলি পার্টি অফিসে ফেলে রেখেছিল। যদিও এলাকায় দেখা মেলেনি তৃণমূল নেতাদের।

Advertisement

বিজেপির মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, “পাঁচটি বস্তায় ভরা ছিল বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা-সহ আরও কিছু প্রকল্পের জন্য পূরণ করা ফর্ম। যেগুলি ভোটের জন্য ধাপ্পা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমা নিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা। কিন্তু সরকারি দপ্তরে জমা না করে পার্টি অফিসে ফেলে রেখেছিল। হয়তো এসব সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে টাকাও তুলেছে।” তাঁর অভিযোগ, “ভোটের ফল ঘোষণার পর আরও কিছু নথি তৃণমূল নেতারা পুড়িয়ে দিয়েছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.