Guskara

বসবাসের নামে ভাড়াবাড়িতে অবৈধ গর্ভপাতের ব্যবসা! পুলিশের জালে গুসকরার কম্পাউন্ডার

অভিযোগ, স্থানীয় যুবকরা কম্পাউন্ডারকে আটক করে মারধর দেয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ২১:২৯

options
link
বসবাসের নামে ভাড়াবাড়িতে অবৈধ গর্ভপাতের ব্যবসা! পুলিশের জালে গুসকরার কম্পাউন্ডার
প্রতীকী ছবি

ধীমান রায়, কাটোয়া: একসময় কমপাউন্ডার ছিলেন। এখন বিভিন্ন নার্সিংহোমের হয়ে দালালির কাজ করছিলেন। বসবাসের জন্য শহরে একটি ঘর ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়া ঘরে রাতের অন্ধকারে চলছিল অবৈধভাবে গর্ভপাতের কারবার। স্থানীয় কয়েকজন যুবকের তৎপরতায় ধরা পড়ল ওই কম্পাউন্ডারের কীর্তি। অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। গুসকরা শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনপাড় এলাকার ঘটনা।

Advertisement

একটি দোতলা বাড়ির উপরতলায় ভাড়া নিয়ে থাকতেন সাধন দাসবৈরাগ্য নামে এক প্রৌঢ়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাত তখন প্রায় পৌনে দশটা। এক কিশোরীর সঙ্গে এক যুবক ও দুই যুবতী আসে । তিন মহিলা সহ এক যুবককে সাধন দাসবৈরাগ্যের ঘরে যেতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। তাঁদের প্রথমে সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির ঘরে মধূচক্রের আসর বসে কিনা। এরপর ওই যুবকরা অতর্কিতে ঘরে ঢুকে পড়েন। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন বিষয়টি অন্য। সাধন দাসবৈরাগ্য বেআইনিভাবে গর্ভপাত করান।

Advertisement

আর ওই দলটির মধ্যে কারও গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যেই রাতে গোপনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যুবকরা ঘরে ঢুকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে উঠতেই ঘর খোলা রেখে পালিয়ে যান সাধন দাসবৈরাগ্য। স্থানীয়রা ঘরটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পুলিশকে জানানো হয়। গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। রাতে তখনকার মতন থে থাম হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ওই ভাড়া ঘরের কাছে আসেন মুর্তিমান সাধন। তিনি আসতেই তাঁকে ধরে আটক করে স্থানীয় যুবকরা। চড়-থাপ্পর চলে। উত্তেজনার খবর পেয়ে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

Advertisement

আউশগ্রাম ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়দ্রথ বিশ্বাস বলেন,” একটা অভিযোগ পেয়েছি। বেআইনিভাবে কেউ গোপনে গর্ভপাত করাতেন। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” জানা গিয়েছে, সাধন দাসবৈরাগ্যের বাড়ি আউশগ্রামের জোরারগঞ্জ গ্রামে। গুসকরা শহরের ওই বাড়িটির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। আগে একজন গাইনো চিকিৎসকের কম্পাউন্ডার ছিলেন। এখন বর্ধমান শহরের একাধিক নার্সিংহোমের হয়ে দালালি করতেন। রোগী পাঠিয়ে কমিশন পেতেন। সাধনের দাবি,” আমি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের কাছে থেকে ফোঁড়া অস্ত্রপচরের কাজটা শিখেছিলাম। সেটাই করি। কিন্তু গর্ভপাত করিনি। আমাকে ওরা ভুল বুঝেছে।” পুলিশ জানায় এখনও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। তবে সাধন দাসবৈরাগ্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.