গরুর মধ্যে রয়েছেন ‘ঈশ্বর’, পড়ানো হচ্ছে হুগলির আরএসএস ঘেঁষা স্কুলে

এবার বন্ধ হয়ে যাবে না তো স্কুলটি, রাজ্য সরকারের নয়া ফরমানে আতঙ্কে শিক্ষকরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ১৫:৫১

options
link
গরুর মধ্যে রয়েছেন ‘ঈশ্বর’, পড়ানো হচ্ছে হুগলির আরএসএস ঘেঁষা স্কুলে

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নো অবজেকশন সার্টিফিকেট না থাকায় ১২৫টি স্কুল দ্রুতই বন্ধ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই খবরে বেজায় চটেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ‘আরএসএস ঘেঁষা’ বলেই স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির তরফে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এদিকে শাসক-বিরোধীদের এই টানাপোড়েনের মধ্যে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হুগলি জেলার বালিবেলার সরস্বতী শিশু মন্দির। ডিসেম্বরেই স্কুলটি রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করেছে। কিন্তু স্কুলটি আর ক’দিন চলবে সেই বিষয়ে সন্দিহান শিক্ষকরা। রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর যে ক’টি ‘অনুমোদনহীন’ বিদ্যালয় বন্ধ করার কথা ভাবছে, তার মধ্যে এই স্কুলের নামও থাকতে পারে বলেও আশঙ্কায় রয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা, খবর হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরএসএস অনুগামী স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর]

গত মঙ্গলবারই বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট না থাকায় রাজ্যের ১২৫টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হবে। সংবাদপত্রটির দাবি, আরএসএস রাজ্য জুড়ে ৪৯৩টি স্কুলে শিক্ষাদানের আড়ালে হিংসার বীজ বপণ করছে বলে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘স্কুল আর যাই হোক, লাঠিখেলার জায়গা নয়।’ হুগলির এই স্কুলটির বিরুদ্ধে রয়েছে ওই একই অভিযোগ। মাস দুয়েক আগেই স্থানীয় বিধায়ক মানস মজুমদার প্রকাশ্যেই তাঁদের স্কুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত স্কুলটির প্রধানশিক্ষক ও একজন স্বয়ংসেবক বিজয় চন্দ্র রায়। সর্বভারতীয় সংবাদপত্রটিকে তিনি জানিয়েছেন, ‘ওই বিধায়কের অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়।’ আরামবাগে কোনও সিনিয়র আরএসএস নেতা এলে এই স্কুলেই রাত্রিযাপন করেন বলে তিনি প্রকাশ্যেই সরব হন।’

Advertisement

আরএসএসের শিক্ষা সংক্রান্ত শাখা বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান ১৯৯২ থেকে স্কুলটি চালিয়ে আসছে। প্রধানশিক্ষক জানাচ্ছেন, সে সময় একটি কুঁড়েঘর ও ১৭ জন পড়ুয়াকে নিয়ে শুরু হয়েছিল পঠনপাঠন। আজ সেখানে দোতলা ভবন তৈরি হয়েছে। ১৮ জন শিক্ষক (আশ্রমিক) ও তিনজন অশিক্ষক কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে এখানে পড়াশোনা করেন প্রায় ৪২৭ জন পড়ুয়া। প্রি-প্রাইমারি বিভাগের নাম অরুণ, উদয় ও প্রভাত। রয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা। বিদ্যা ভারতী সংগঠনটি রাজ্য জুড়ে ৩২৬টি স্কুল পরিচালনা করে। প্রায় ৩২০০ জন শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেন ৬৫ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া। প্রতিদিন সকালে সরস্বতী বন্দনা, যোগাসন সহযোগে ক্লাস শুরু হয়।

[ক্লাসরুমে মদের বোতল-চাট, ৩ দিন মালদহের স্কুলে দেদার মোচ্ছব পুলিশের]

কিন্তু এরকম একটি স্কুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রাজ্যের? সর্বভারতীয় সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, এই স্কুলের ইতিহাস বইটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে সরকারের। ‘বোধমালা’ বইতে হিন্দুত্ব ও আরএসএসকে তুলে ধরতে গিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, দাবি সরকারের। এই বইতে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক গবেষক হিসাবে নাকি মহর্ষি কণাদের নাম রয়েছে। এও লেখা রয়েছে, ‘আফগানিস্তান’-এর নামকরণ হয়েছে সংস্কৃত শব্দ ‘উপাগানাস্থান’ থেকে। বইতে এও বলা হয়েছে, গরু প্রত্যেকের মাতৃসমান। কারণ, তার শরীরের ভিতর স্বয়ং ঈশ্বর থাকেন। তবে রাজ্য সরকার কোনও অজুহাতে স্কুল বন্ধ করে দিতে চাইলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যা ভারতীর উত্তরবঙ্গের প্রধান পার্থ ঘোষ।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘তোষামোদের চূড়ান্ত রূপ দেখল এ রাজ্যের মানুষ। এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রীই ইমামদের ভাতা ঘোষণা করেছে।’ যদিও আরএসএস ঘেঁষা বলেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এই জাতীয় যাবতীয় দাবি উড়িয়ে পালটা শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি, রাজ্যে ৪৯৩টি স্কুল, যার মধ্যে বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গে, সিলেবাস মেনে পড়াচ্ছে না। ওদের এনওসি পর্যন্ত নেই। তাই ডিআই ও শিক্ষাদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নিতে।’

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.