চিকিৎসকের পরিচয়টাই ছিল ভুয়ো। সেই পরিচয়েই চলত চিকিৎসা, এমনকী স্পাইন ও ব্রেনের অস্ত্রোপচারও। চিনারপার্কে একটি আস্ত হাসপাতাল চালান তিনি। করেন অস্ত্রোপচারও। রোগীমৃত্যুর মামলায় সেই বজলুর রহমানকেই ৮ বছরের কারাদণ্ড দিল বারাসত আদালত। বুধবার অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ তৃতীয় কোর্টের বিচারক তাঁর সাজা ঘোষণা করেন। তাঁর ৩ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালে। বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে অর্চনা রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে বারাসত থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে গ্রেপ্তার করা হয় বজলুরকে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, প্রতারণা এবং জাল নথি ব্যবহারের ধারায় মামলা হয়। তদন্তে উঠে আসে, নিজেকে স্পাইন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করতেন বজলুর। অভিযোগ, জাল চিকিৎসা-সংক্রান্ত শংসাপত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি অন্য চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও কাজে লাগাতেন তিনি। সেই পরিচয়েই স্পাইন ও ব্রেনের অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ, চিনারপার্কের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল চালাতেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার নার্সিংহোমেও অস্ত্রোপচার করতেন।
আরও পড়ুন:
এই মামলায় গত সোমবারই বজলুরকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এদিন তাঁর ৩০৪ ধারায় ৮ বছর, ৪২০ ধারায় ৫ বছর এবং ৪৭১ ধারায় ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। পাশাপাশি ৩ লক্ষ টাকা জরিমানাও হয়েছে। সরকারি আইনজীবী সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, “বজলুর রহমান আদ্যপান্ত একজন ভুয়ো চিকিৎসক। নিজেকে স্পাইন স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করতেন। তাঁর ভুল চিকিৎসায় বহু রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৩৩০০ কর্মী ছাঁটাই করবে উবের! চালকহীন গাড়ির পথেই হাঁটছে সংস্থা
-
কেক-বেলুনে ঋতিকার জন্মদিন পালন, সোশাল মিডিয়ায় হিরণের নতুন পোস্টে ফের চর্চায় বিয়ে বিতর্ক
-
‘রক্ত-শোক ভোলার নয়’, বিয়ের আসরে মার্কিন হামলার নিন্দায় ইরান, ‘নীরব বিশ্ব’কে তোপ
-
প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভে ‘না’, নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তেজনা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে
-
‘সংখ্যালঘু স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ’, মাদ্রাসার জন্য মন্দির ভাঙায় পাকিস্তানকে তোপ ভারতের