বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের দরজায় ধরনা, পুড়ে মরার হুমকি মহিলার

‘জান থাকতে আমি ওঁকে অন্যের হতে দেব না।’ হুঙ্কার প্রেমিকার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮, ০৮:৪৩

options
link
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের দরজায় ধরনা, পুড়ে মরার হুমকি মহিলার

নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: প্রেমের জন্য জান বাজি! তাই মরণ-পণ করে জলের ট্যাঙ্কে উঠে পড়েছিল শোলের বীরু। হুমকি দিয়েছিল, বাসন্তীর সঙ্গে বিয়ে না হলে নিচে ঝাঁপ দেবে। গ্রামবাসী ‘দিওয়ানা’ প্রেমিকের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ‘জলদি হ্যাঁ বল। নচেৎ মুশকিল হয়ে যাবে।’- বাসন্তীর মাসিকে বুঝিয়েছিল রামগড়ের লোক।

Advertisement

সিনেমার পর্দায় প্রণয়িনীকে ‘হাসিল’ করতে নায়কের আর বেগ পেতে হয়নি। এবার বাস্তবের রুখু জমিতে তেমনই এক টানটান রোমান্সের চিত্রনাট্য হাজির। এখানে অবশ্য মরণ-পণ করেছেন প্রেমিকা। ঘরবাঁধার দাবি নিয়ে যিনি কিনা প্রেমাস্পদের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে পড়েছেন! হুমকি দিয়েছেন, প্রণয়ীর পরিবার বিয়েতে রাজি না হলে ওখানেই গায়ে আগুন দেবেন। বাড়ির লোক যাতে সটকান দিতে না পারে, সে জন্য পিছনের দরজায় তালা লাগাতেও ভোলেননি। এবং তিনিও ‘প্রেম-আন্দোলনে’ পরিজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে পাশে পেয়েছেন মহিলা।  ভালবাসার জেহাদকে সম্মান জানিয়ে পাড়া-পড়শির অনেকেও ধরনায় শামিল!

Advertisement

[লাভ জেহাদের ছায়া! রামপুরহাটে উদ্ধার যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ]

Advertisement

চমকদার কাহিনিটির ঘটনাস্থল হুগলির মগরা। বাঁশবেড়িয়ার তিন নম্বর গুমটি চকের বাসিন্দা সাবিনা খাতুন সংসার পাততে চান পাড়ার ছেলে নাজির আহম্মেদের সঙ্গে। বহু বছরের প্রেম। অথচ সব জেনেও নাজিরের পরিবার বেঁকে বসেছে। এমনকী, এতদিনকার ভালবাসার মানুষটিও নানা অছিলায় তাঁকে এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সাবিনার। পরিণামে তিনি মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। এমনকী, দিন কয়েক আগে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে সফল হননি।

এরপর খবর আসে, নাজিরের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে অন্য মেয়ের সঙ্গে। তাই একটা এসপার-ওসপার করতে চরম পথই বেছে নিয়েছেন মরিয়া প্রেমিকা। সোমবার নাজিরের বাড়ির সামনে শুরু হয়েছে তাঁর ধরনা-আন্দোলন। সাবিনা জানিয়েছেন, সেই ছোটবেলা থেকে নাজিরকে ভালবাসেন। নাজিরও ভালবাসত। কিন্তু ওর পরিবার প্রেমের পরিণতির পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘আমাদের এতদিনকার সম্পর্কের কথা তামাম মহল্লা জানলেও ওই বাড়ির লোক মানতে চাইছে না!’- আক্ষেপ সাবিনার। এদিন ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘যার কাছে আমি নিজেকে মনে-প্রাণে সঁপে দিয়েছি, পরিবারের চাপে সে-ই আমাকে দূরে ঠেলছে! জান থাকতে আমি ওঁকে অন্যের হতে দেব না। গায়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজেকে শেষ করে দেব।’

[দেহে পচন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরছে না কেশপুরের চিরঞ্জীবের দেহ]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার খবরটি যাচাই করতে সাবিনা রবিবার দুপুরে নাজিরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁকে অপমান, মারধর করে বার করে দেওয়া হয়। বিবাদের ফয়সালা করতে রবিবারই বিকেলে পাড়ায় সালিশিসভা বসে। নাজির, সাবিনা দু’জনের উপস্থিতিতে সালিশিতে স্থির হয়, এতদিনের সম্পর্ককে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। নাজির সাবিনাকেই বিয়ে করবেন। সাবিনার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পরই নাজিরের বাড়ির লোক আলোচনার নাম করে তাঁকে সালিশিসভার বাইরে ডেকে নিয়ে যান। আর সেই মওকায় ওখান থেকে তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়া হয় নাজিরকে।

ধোঁকা খেয়েছেন বুঝে এদিন দুপুরে নাজিরের বাড়ির সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েছেন প্রতারিত প্রণয়িনী। দাবি, প্রতিকার। সাফ জানিয়েছেন, ‘যতক্ষণ না নাজির এসে আমাকে বিয়ে করছে, ততক্ষণ ধরনা চলবে। বিয়ে না হলে পুড়ে মরব।’ সাবিনার অনমনীয় জেদকে কুর্নিশ করছেন মহল্লাবাসী। তাঁদেরও অনেকে ওঁর সঙ্গে ধরনায় বসেছেন। ‘এতদিন মেলামেশা করে এখন বিয়েতে আপত্তি! এ মানা যায় না।’- বলছেন তাঁরা। সাবিনার মা আলেয়া বিবি জানিয়েছেন, বিয়ে পাকা না হওয়া ইস্তক তিনিও মেয়ের সঙ্গে মাটি কামড়ে বসে থাকবেন।

নাজিরের পরিবারের কী বক্তব্য?

সদর দরজায় ‘আন্দোলনের’ ভিড়, পিছনের দরজায় তালা। বাড়ির লোকের সঙ্গে কোনওমতেই যোগাযোগ করা যায়নি। জানা যায়নি, বাসন্তীর মাসির মতো তাঁরাও ‘হ্যাঁট’ বলবেন কি না।

[চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য সুখবর নিয়ে উত্তরবঙ্গে মমতা, বাড়ছে মজুরি]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.