সন্ত্রাসের আতঙ্কে বাংলাদেশের আশ্রয়ে দিনহাটা সীমান্তের ৯ পরিবার

অভিযোগ অস্বীকার স্থানীয় প্রশাসনের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৮, ১৬:৪২

options
link
সন্ত্রাসের আতঙ্কে বাংলাদেশের আশ্রয়ে দিনহাটা সীমান্তের ৯ পরিবার

সংগ্রাম সিংহ রায়, শিলিগুড়ি:: রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে থাকা দায়। আতঙ্কিত হয়ে বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সীমান্তবর্তী গ্রাম দিনহাটার গীতালদহর ৯টি পরিবার। ঘটনার জেরে কোচবিহার জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে।

Advertisement

ছিটমহল আন্দোলনের নেতা তথা বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার অবজার্ভার দীপ্তিমান সেনগুপ্তর দাবি, বুধবার অর্থাৎ ১১ এপ্রিল রাতে গীতালদহের খারিজা হরিদাস খামার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আবু মিঞা নামে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য খুন হন। এরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এর মধ্যে ৯ পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[দিল্লিতে পড়তে গিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু]

Advertisement

দীপ্তিমান বাবু বলেন, “এর আগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকার ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম রাজনৈতিক হিংসায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ এ দেশ থেকে গিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। বিষয়টি কোচবিহার জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনুক এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক।” দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, “এমন ঘটনার কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডেও। তিনি বলেন, “ আমরা সব সময় সীমান্তে থাকা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছি। এমন ঘটনার কথা বিএসএফের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি।”

[দলীয় প্রতীক পেয়ে কে নিশ্চিত করবে জয়? কাটোয়ায় বিড়ম্বনায় তৃণমূল]

প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা স্বীকার না করলেও খারিজা হরিদাস এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর থেকে অনেকেই আতঙ্কে এলাকা ছাড়া। এর মধ্যে খারিজা হরিদাস এলাকার বাসিন্দা ঘটনার রাতেই দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের (১২৯/৫ এস) আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ফুলবাড়ি উপজেলার গোরকমগুলে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন সাহিদুল হক, আবদুল হক, তার ছেলে সাহিন মিঞা, বদরু মিঞা, আবদুল আজিজের স্ত্রী সফিয়া বিবি, খারিজা হরিদাস খামার জুনিয়র হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী পিঙ্কি খাতুন, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আরবিনা খাতুন-সহ অনেকেই। ওই এলাকার এক বাসিন্দা টেলিফোনে বলেন, “ ঘটনার পর আমরাও এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। দু’দিন বাদে আবার এলাকায় ফিরে এসেছি। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। আমার যে কোনও সময় গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এখানকার বাসিন্দারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

[বিয়ের দুদিন আগেই শ্যালিকাকে অ্যাসিড ছুড়ে মারল যুবক]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.