সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: চেক পোস্টে ‘স্টপ’-এর বাঁ-পাশে সবুজ কালিতে লেখা ‘থামুন, আপনার পরিচয় দিন।’ কিন্তু পরিচয় নেবেন কে? পুরুলিয়ার বলরামপুরের ঘাটবেড়ার শুনশান পুলিশ ক্যাম্পে যে কাক-পক্ষীও নেই। একদফা ভোটের গুঁতোয় একদা মাও এলাকার এই ক্যাম্পই যে তালাবন্ধ! শুধু কি পুলিশ ক্যাম্প? সোমবার ভোটের দিনে থানাও ছিল প্রায় অরক্ষিত! একজন ডিউটি অফিসার আর হাতে গোনা কয়েকজন সিভিক নিয়ে কাজ হল পুরুলিয়ার একাধিক থানায়। সোমবার রাজ্যে এক দফার পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প থেকে থানাগুলির ছবিটা ছিল এমনই। রবিবার রাত থেকেই জেলার একাধিক পুলিশ ক্যাম্পে তালা পড়ে যায়। কোথাও আবার সিভিককে পাহারাদার করে ক্যাম্পের পুলিশ যায় ভোটের ডিউটিতে।
[ভোটের যুদ্ধ শেষ, বেলাশেষে একপাতে খিচুড়ি খেলেন যুযুধান তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা]
এদিন ঘাটবেড়ার পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায় সেন্ট্রি পোস্টে কোনও জওয়ান নেই। ক্যাম্পের একেবারে সামনে গেলেও ভেসে আসছে না কোনও জওয়ানের চিৎকার। ফলে একটু এগিয়ে গিয়েই দেখা গেল কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা ক্যাম্পের লোহার গেট ভেতর থেকে তালা বন্ধ। এলাকার বাসিন্দারাই বললেন, গত রবিবার রাত থেকেই এই ক্যাম্প তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ এই শিবিরে ছিলেন তিন পুলিশ আধিকারিক-সহ ৬০ জন জুনিয়র কনস্টেবল। এই বলরামপুরের পাশের ব্লক বাঘমুন্ডির দিগারডি ক্যাম্প অবশ্য খোলা থাকলেও তা পাহারা দিচ্ছিলেন লাঠিধারি সিভিক ভলানটিয়ার। অথচ সোমবার থেকে বছর দু’য়েক আগে এই দিগারডি ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে মাওবাদীরা ওই এলাকায় পোস্টার সাঁটে। ঘাটবেড়ার মত তালাবন্ধ ছিল বলরামপুরের ব্লক কার্যালয়ের ভেতরে থাকা ১৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের স্টেট আর্ম পুলিশের শিবিরও। সেখানে থাকতেন এক সেকশন জওয়ান। একই অবস্থা চোখে পড়ে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ঝালদার তুলিন ফাঁড়ির মধ্যে থাকা স্ট্র্যাকো ও ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ ক্যাম্পেও। তালাবন্ধ ছিল বান্দোয়ানের কুইলাপালের ক্যাম্পেও।

এই ক্যাম্পগুলিতে মোতায়েন থাকা স্ট্র্যাকো বা রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের সকলকেই ভোটের কাজে লাগিয়ে দেয় জেলা পুলিশ। তাই এদিন রাত দশটা পর্যন্ত ওই পুলিশ ক্যাম্প গুলিতে দেখা যায়নি কোন জওয়ানকে। ওই পুলিশ শিবিরগুলি তালা বন্ধ থাকায় ক্যাম্পের বাইরে থাকা আলো পর্যন্ত জ্বলেনি। অথচ এই বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, বান্দোয়ান ও ঝালদা এলাকা একেবারে ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা। এই ভোটে ঝাড়খণ্ড থেকে বহিরাগতরা ঢুকছে বলে শাসক দলই বারবার অভিযোগ করেছে পুলিশের কাছে। তারপরও ক্যাম্প তালাবন্ধ করে চলে যেতে বাধ্য হয় রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন বাহিনীর জওয়ানরা। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “আমাদের কিছু করার নেই। একদফায় সারা রাজ্যে ভোট হচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে আমরা মাত্র ১১৫জন তেলেঙ্গানা পুলিশ পেয়েছি। ফলে যেখানে যা রক্ষী ছিল তার প্রায় সবটাই ভোটের কাজে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছি।”
ছবি- অমিত সিং দেও
[ভোটে নেই আরাবুল, অশান্ত ভাঙড়ে কেমন হল গণতন্ত্রের উৎসব?]
সর্বশেষ খবর
-
২০ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামে ইতি! স্বামী মদনের ডাকে বাংলায় আত্মসমর্পণের পথে মাওবাদী জবাও
-
‘পালালেও লুকোতে পারবে না’, কাশ্মীরে সেনা অভিযানে খতম জইশ জঙ্গি, উদ্ধার অত্যাধুনিক M4 রাইফেল
-
প্রদীপকে সরিয়ে মিতা! জেলা সভাপতি বদল হতেই অশান্তির ‘কালো মেঘ’ প্রদেশ কংগ্রেসে
-
দেহরক্ষী শেরাপুত্রের ‘গডফাদার’ সলমন! কোন ছবিতে অভিষেক আবিরের?
-
গণতন্ত্রে বিশেষ রাজনৈতিক মতবাদের গুরুত্ব ক্ষতিকারক