ধীমান রায়: মরা ডালে অসময়ে ফোটে কদম ফুল। একটি গাছে একটিই ফুল থাকতে হবে। আর গভীর রাতে গাছ থেকে সেই ফুল পেড়ে এনে পুজো করা হয় আউশগ্রামের ধনেশ্বর শিবের। গাজন উৎসবে এই প্রথা প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে ধনকুড়া গ্রামে। গাজনের দিন ঢাকঢোল বাজিয়ে ভক্তরা চলে যায় সেই নির্দিষ্ট কদমগাছটির তলায়। গাছতলায় পুজো হয়। তারপর সন্ন্যাসী গাছে উঠে ফুলটি পেড়ে নিয়ে চলে আসেন শিবমন্দিরে। গাজন উপলক্ষ্যে ধনকুড়া গ্রামে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলে উৎসব। শুধুমাত্র স্থানীয় এলাকা থেকেই নয়. বীরভূম জেলা থেকেও বহু পুন্য্যর্থী গাজনে অংশ নেয়।
[দেড়মাসের বাঘবন্দি খেলা শেষ, বাগঘরার জঙ্গলে মিলল রয়্যাল বেঙ্গলের মৃতদেহ]
আউশগ্রামের ধনকুড়া গ্রামে রয়েছে বহু প্রাচীনকালের প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ। এই শিবলিঙ্গটি ধনেশ্বর শিব নামে পুজিত হন। মন্দিরের ভিতরে প্রায় ৫ ফুট গর্তের ভিতর রয়েছে প্রাচীন শিবলিঙ্গটি। কষ্ঠিপাথরের প্রাচীন মুর্তি। শোনা যায়, বর্গিহানার সময় এই মন্দিরে হামলা হয়েছিল। কিন্তু গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গ দর্শন পাওয়ার পর ফিরে যায় বর্গিরা। স্থানীয় ইতিহাস গবেষক রাধামাধব মণ্ডল বলেন, বর্গি সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত ছিলেন শিবভক্ত। তিনি ধনকুড়া গ্রামে এই মন্দিরে যখন হামলা করেন তখন ভেবেছিলেন এটি ধর্মরাজের মন্দির। ভাঙা শুরুও করেন। কিন্তু ধনেশ্বরের প্রস্তর মুর্তিটি দর্শন করা মাত্রই তিনি প্রণাম করে ফিরে যান। তখন রক্ষা পেয়েছিল এই মুর্তি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন বর্গিহামলার পর পাশে আবার নতুন করে মন্দির তৈরি হয়েছিল।
[বউমার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক! রাগে প্রতিবেশী যুবকের দু’হাত কাটল শ্বশুর]
ধনকুড়া গ্রামে গাজন উৎসবে প্রচুর ধুমধাম হয়। প্রথা মেনে গাজনের কামান হয়। আগুনের ওপর, কাঁটা ভরতি ডালপালার ওপরে প্রণাম খাটেন গাজনের সন্ন্যাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা নান্টু ঘোষ, তাপস ঘোষরা জানিয়েছেন, গাজনে ধনেশ্বরের পুজোয় লাগে একটি কদমফুল। তবে অসময়ে এই কদমফুল সংগ্রহের ক্ষেত্রে রয়েছে নিয়মকানুন। জানা গিয়েছে, একজন সন্ন্যাসী জানিয়ে দেন কোন জায়গা থেকে কদমফুলটি পাওয়া যাবে। ফুলটি ফোটে কদমগাছের আধমরা একটি ডালে। গভীর রাতে মন্দির থেকে একটি পাথরের তৈরি হাতির মুর্তি নিয়ে গিয়ে ওই গাছের তলায় প্রথমে পুজো হয়। তারপর গাছে উঠে ফুলটি পেড়ে নিয়ে এসে চড়ানো হয় ধনেশ্বরের মাথায়। এই প্রথা বছর বছর চলে আসছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন কদমফুল কোনোবছর কাছাকাছি মিলে যায়। কখনও বহুদুরে যেতে হয়। ধনকুড়া গ্রামে গাজনে প্রায় সাতদিন ধরে মেলা চলে। নানান অনুষ্ঠান হয়। হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ রামায়ণ গান।
সর্বশেষ খবর
-
চার মাসেই ভাঙন! ‘ককরোচ বিক্রি হয়ে গেছে’, নতুন দল গড়ে তোপ মণীশ ব্রহ্মভট্টের
-
এবার পণ্যের এক্সপায়ারি ডেট জানাতে হবে অনলাইন ফুড প্ল্যাটফর্মগুলিকে! আসছে কড়া নিয়ম
-
‘বিগ বস’-এর ঘরে রেশন-বাসন দুর্নীতি! পেট ভরাতে শেষে কমলালেবু চুরি ঝিলমের
-
নিমেষে মুশকিল আসান করে ‘ম্যাজিকাল নম্বর’, জেনে নিন কোন বিপদ থেকে বাঁচাবে কোন সংখ্যা?
-
গম্ভীরের জমানা কি শেষের পথে? এশিয়ান গেমসে ভারতের কোচ লক্ষ্মণ