ধীমান রায়, কাটোয়া: হিসাব অনুযায়ী পাঁচ বছর আগেই অন্নপ্রাশনের কথা ছিল। কিন্তু তখন একটিই কারণে তা করা হয়নি। ফাঁকা পাটিতে দাঁত গজায়নি। সেই বহু আকাঙ্খিত দাঁতের উদয় হল ১০৫ বছর বয়সে এসে। পরিবারের সদস্যরা আশ্বস্ত হয়ে তাই শুক্রবার শাস্ত্রমতে অন্নপ্রাশন করলেন গুসকরার ফুলমালাদেবীর। গুসকরা শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নেতাজি পল্লির বিশ্বাসবাড়িতে এদিন ছিল মহা ধুমধাম। ধুমধামের মধ্যমণি ফুলমালা সরকার। ১০৫ বছরে পা দিলেন তিনি। সেই উপলক্ষ্যেই নতুন করে তাঁর অন্নপ্রাশন করা হল। পাত পেড়ে ভোজ খেলেন প্রায় দেড়শো আমন্ত্রিত।
গুসকরা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ভাতারের মাহাতা গ্রাম। সেখানেই বাস ফুলমালা সরকারের। স্বামী মারা গিয়েছেন প্রায় ৪৫ বছর আগেই। ছিল তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে আবার বড় ও ছোট ছেলে মারা গিয়েছেন। মাহাতায় থাকেন মেজ ছেলে আশুতোষ সরকার। বড় মেয়েও বেশ কয়েকবছর আগেই মারা গিয়েছেন। গুসকরায় ছোট মেয়ে কল্পনা বিশ্বাসের বাড়িতে থাকেন ফুলমালাদেবী।
[মহিলা চিকিৎসক থাকলে তবেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবেন প্রসূতিরা, অনড় গ্রামবাসীরা]
রীতিমত শক্ত সমর্থ চেহারা। মুখে বয়সের ছাপ পড়লেও হাঁটাচলায় কোনও সমস্যা নেই। চোখের দৃষ্টিশক্তিও বেশ ভাল। বাড়ির টুকিটাকি কাজ করতে ভালবাসেন। তবে পরিবারের লোকজন তাঁকে কাজ করতে দেন না। গল্পগুজব করে আর নাতির ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খেলা করে সময় কাটান ফুলমালাদেবী।

ভোটার কার্ড অনুযায়ী বয়স ১০০-র থেকে কিছুটা কম হলেও তার মেয়ে কল্পনাদেবীর(৫৮) দাবি, ওই ভোটার কার্ডে বয়স ভুল রয়েছে। কারণ একবার মাহাতার বাড়িতে আগুন লেগে সব কাগজপত্র পুড়ে গিয়েছিল। আগের ভোটার কার্ডে বয়স সঠিক ছিল। ‘এই কার্ডে বয়স কম রয়েছে। মায়ের আসল বয়স হল ১০৫ বছর’, জানান কল্পনাদেবী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কল্পনাদেবীর ছোট ছেলে বিশ্বজিতের মেয়ে দীপ্তিরও এদিনই অন্নপ্রাশন করা হয়। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘দিদিমার অন্নপ্রাশন করাই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। তাই এক খরচে মেয়েরও অন্নপ্রাশন করি। যদিও পাঁচ বছর আগেই অন্নপ্রাশন করার কথা ছিল। কিন্তু ১০০ বছর বয়স হলেও তখন দিদিমার দাঁত বেরোয়নি। দু’মাস আগে একটি দাঁত দেখা গিয়েছে। তাই শাস্ত্রমতে এখন অন্নপ্রাশন করানো হচ্ছে। এদিন অন্নপ্রাশনের মেনুতে ছিল ভাত, লুচি, তরকারি, ডাল, মাংস, চাটনি-সহ একাধিক রকমের মিষ্টি। নাতির ছেলে তাঁর মুখে পায়েস তুলে দেয়। আর ফুলমালাদেবী নিজেও অতিথিদের আপ্যায়ণ করেন। আর কতদিন বাঁচার ইচ্ছা রয়েছে? শতায়ুর উত্তর, ‘কথায় বলে নাতির নাতি, স্বর্গে বাতি। তাই আমার বিশ্বজিতের নাতির মুখ দেখেই মরতে চাই।’
ছবি: জয়ন্ত দাস
[মানবিকতার নজির, ভবঘুরে যুবককে ঘরে ফেরালেন করিমপুরের ব্যবসায়ীরা]
সর্বশেষ খবর
-
কোচ-প্লেয়ারদের পর ‘নয়নমণি’র উপর কোপ! দায় এড়াতে দোষারোপ পাক ক্রিকেট কর্তা নকভির
-
গঙ্গার ভাঙন-বন্যায় বিপর্যস্ত মালদহ, রিপোর্ট তলব নবান্নের
-
পুজোর রাতে অভিনব ড্রোন শো, কলকাতার আকাশজুড়ে বাংলার সংস্কৃতি ফুটিয়ে তুলবে নবান্ন
-
তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ, বাড়িতে মিলল অস্ত্রভাণ্ডার!
-
ঋতব্রতর বিরুদ্ধে তদন্ত! রাজ্যকে শাহের মন্ত্রকের নির্দেশের পর সোশাল মিডিয়ায় কী দাবি কুণালের?