Murshidabad

১৫০ কেজির ছেলের রোজকার খোরাক দেড় কেজি চালের ভাত! আধার ঝামেলায় বন্ধ রেশন, দুশ্চিন্তায় বাবা

ওজন ১৫০ কেজি। বয়স ২৮ বছর। বিশাল চেহারার মোস্তাফিজুর রহমান শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন বলে খবর। প্রতিদিন প্রায় দেড় কেজি চাল ও পাঁচশো গ্রামের আটা-ময়দার রুটি ও অন্যান্য খাবার প্রয়োজন।

অতুলচন্দ্র নাগ
অতুলচন্দ্র নাগ

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১৯:৩৫

options
link
১৫০ কেজির ছেলের রোজকার খোরাক দেড় কেজি চালের ভাত! আধার ঝামেলায় বন্ধ রেশন, দুশ্চিন্তায় বাবা
ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাবা। নিজস্ব চিত্র

ওজন ১৫০ কেজি। বয়স ২৮ বছর। বিশাল চেহারার মোস্তাফিজুর রহমান শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন বলে খবর। প্রতিদিন প্রায় দেড় কেজি চাল ও পাঁচশো গ্রামের আটা-ময়দার রুটি ও অন্যান্য খাবার প্রয়োজন। সেই খাবার জোগান দিতে হিমহিশ খাচ্ছেন তাঁর বাবা আবুল হাসান। জানা গিয়েছে, আবুল হাসানের ভোটার কার্ড থাকলেও আধার কার্ড নেই। এদিকে ছেলের ভোটার-আধার কার্ড কিছুই নেই। আধার কার্ড না থাকার কারণে এবার ওই পরিবার এখন রেশন পাচ্ছে না। ফলে আরও আতান্তরে পড়েছেন আবুল হাসান।

Advertisement

ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ইসলামপুর থানার পমাইপুর মোস্তাফা পাড়ার। মোস্তাফিজুর রহমানের জন্ম ১৯৯৮ সালের ১৫ এপ্রিল। ২০০৫ সালে তাঁর মা মারা যান। সেই ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই মোস্তাফিজুরের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা শুরু হয়। অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়তে থাকে। কথা বলার শক্তিও ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে সে। একটা সময় হাঁটাচলাও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নিজের হাতে খাবার তুলে খেতেও পারে না। বাবা খাবার মুখে তুলে দিলে তবেই খেতে পারে। শরীরের অস্বস্তির কারণে পোশাক পরেও থাকতে পারে না। অধিকাংশ সময় ঠান্ডা মেঝেতেই শুয়ে থাকতে হয় তাঁকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সিলিং ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও কষ্ট হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আধার কার্ড না থাকায় একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও ওই পরিবার পাচ্ছে না এখন। রেশন বন্ধ, খাদ্যসাথী ও আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন না, তাঁরা। আগে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও আধার না থাকায় এখন সেটিও বন্ধ! এতদিন রেশন থেকে চাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিছুটা পরিমাণে পেত ওই পরিবার। এখন রেশন বন্ধ থাকায় ছেলের মুখে খাবার জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বাবা। কাজ করে যে কটা টাকা পান, ছেলের খাবার কিনতেই চলে যায়। প্রতিবেশীদের থেকেও খাবার চেয়েচিন্তে নিতে হয়। খিদের জ্বালা বড় জ্বালা, ছোট থেকে মোস্তাফিজুরকে এমন অবস্থায় দেখে প্রতিবেশীরাও তাঁকে খেতে দিয়ে যান।

Advertisement

আবুল হোসেন জানিয়েছেন, প্রায় ১৮ বছর আগে আধার তৈরির চেষ্টা শুরু হলেও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কাজ হয়নি। হেরামপুর পঞ্চায়েত থেকে পাঁচরাহা মোড়ের সেন্টার, পরে বিডিও অফিস এবং ২০২৪ সালে ইসলামপুর পোস্ট অফিস—সব জায়গায় চেষ্টা করেও কোথাও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, “পাগল বলে কেউ গায়ে হাত দিল না। সকলেই বলে অমুক জায়গায় যাও। কোথাও কাজ না হওয়ায় এখন আর তাই কোথাও যাই না।” আধার কার্ড নয়া থাকায় সব সরকারি প্রকপ্ল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তাও ছড়িয়েছে। রানিনগরের বিধায়ক জুলফিকার আলি বলেন, “ছেলেটির আধার কার্ড তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।” রানিনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রোজিনা বিবি বলেন, “বিষয়টি বিডিও সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.