বঙ্গে পালাবদল
Manas Bhunia on Suvendu Adhikari

‘মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত’, শুভেন্দুর প্রশংসায় মানস, বিঁধলেন শীর্ষ নেতৃত্বকেও

১৯৮২ সাল থেকে এক টানা বিধায়ক ছিলেন মানস ভুঁইয়া। সবং ছিল তাঁর শক্তঘাঁটি। যা বাম আমলেও হাতছাড়া হয়নি

Advertisement
অংশুপ্রতীম পাল
অংশুপ্রতীম পাল

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০২৬, ১৯:৫১

options
link
‘মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত’, শুভেন্দুর প্রশংসায় মানস, বিঁধলেন শীর্ষ নেতৃত্বকেও
শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা মানস ভুঁইয়ার মুখে।

২৬ এর নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। রাজ্যের যে সমস্ত জায়গায় তৃণমূলের শক্তঘাঁটি ছিল, সেখানেও উঠছে গেরুয়াঝড়। এরপরেই শীর্ষনেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে তৃণমূল। এর মধ্যেই ‘বেসুরো’ রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া! পরাজয়ের জন্য নিজেকে দায়ী করে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে একহাত নিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ‘মেদিনীপুরের ছেলে’ শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও এদিন উঠে আসে মানস ভুঁইয়ার বক্তব্যে। বলেন, ”শুভেন্দু মেদিনীপুরের সন্তান। ওকে বিলক্ষণ চিনি। মেদিনীপুরের একজন মানুষ হিসাবে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্ব অনুভব করছি।”

Advertisement

পরাজয়ের জন্য নিজেকে দায়ী করে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে একহাত নিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ‘মেদিনীপুরের ছেলে’ শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও এদিন উঠে আসে মানস ভুঁইয়ার বক্তব্যে।

আজ, সোমবার দুপুরে সবংয়ে দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন মানস ভুঁইয়া। আর সেখানেই গোটা রাজ্যে দলের বিপর্যয়ের জন্য কোনও একজনকে দায়ি করতে নারাজ মানস ভুঁইয়া। তবে সবংয়ে হারের জন্য নিজেকে দায়ি করলেও আভ্যন্তরীণ কিছু ত্রুটি ছিল বলে তিনি মনে করছেন। যদিও এখনই তিনি গোটা বিষয়টিকে অন্তর্ঘাত বলে বলতে রাজি নন। তবে সবংয়ে একসময়ে তাঁরই ছায়াসঙ্গী অমল পান্ডার বিজেপির প্রার্থী হওয়ার নেপথ্যে কলকাতার তৃণমূল ভবন থেকে শুরু করে দলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষ নেতার ভূমিকা রয়েছে বলে তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তিনি বলেন, ”হারের জন্য আমিই দায়ী।” যদিও হারের দায় নিজের ঘাড়ে নিলেও তিনি দলের একাংশের অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেন নি।

Advertisement

রীতিমতো অভিমানের সুরে রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী বলেন, ”২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আমি কাঠবিড়ালির ভূমিকা পালন করেছিলাম। কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি কেউ আজ পর্যন্ত দেয় নি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোনোদিন এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি কথাও বলতে শোনা যায় নি।” উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পরিবর্তনের সময় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে তৃণমূল। সেই সময় প্রদেশ সভাপতি মানস ভুঁইয়া। আর এই জোট হওয়ার পিছনে ছিল তাঁর ভূমিকা। সেই আক্ষেপই এদিন উঠে আসে প্রাক্তনমন্ত্রীর বক্তব্যে।

Advertisement

রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী বলেন, ”২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আমি কাঠবিড়ালির ভূমিকা পালন করেছিলাম। কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি কেউ আজ পর্যন্ত দেয় নি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোনওদিন এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি কথাও বলতে শোনা যায় নি।”

এদিকে দলের অনেক নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ি করলেও তিনি সেই প্রসঙ্গে কার্যত অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন “এই হারের দায় কারোর একার নয়। সাফল্য হলে আমার। আর ব্যর্থতা এলে দায় অন্যের। এই সংস্কৃতি থেকে মুক্তি চাই।” তিনি বলেন, ”এখন অনেকেই ওঁর ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। অথচ একসময় এই নেতারাই ওঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চাতক পাখির মতো উন্মুখ হয়ে বসে থাকত।” এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে তাঁর কাছে মানস ভুঁইয়ার আবেদন, ”আপনি বাংলা ও মেদিনীপুরের মানুষের চোখের জল মোছান। শান্তি ফিরিয়ে আনুন। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ হলে অবশ্যই কথা বলব।”

বলে রাখা প্রয়োজন, ১৯৮২ সাল থেকে এক টানা বিধায়ক ছিলেন মানস ভুঁইয়া। সবং ছিল তাঁর শক্তঘাঁটি। যা বাম আমলেও হাতছাড়া হয়নি। কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে যোগ দেন মানস। সেই সময়েও তাঁকে ঠেকানো যায়নি। কিন্তু এবার গেরুয়াঝড়ে একেবারে কুপোকাত বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা।।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.