Purulia

ছক ছিল নাশকতার! মাও বঙ্গ ব্রিগেডকে বাগে আনতে পুরুলিয়ায় শুরু ‘মিশন আকাশ’

ঝাড়খণ্ড পুলিশের সাথে নীল নকশা সাজিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে অভিযানে নামল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২৬, ২৩:২৭

options
link
ছক ছিল নাশকতার! মাও বঙ্গ ব্রিগেডকে বাগে আনতে পুরুলিয়ায় শুরু ‘মিশন আকাশ’
৬ আগস্ট। বান্দোয়ানের আসনপানি গ্রামে পুলিশ সুপারের নেতৃ্ত্বে অভিযান। ছবি: অমিত সিং দেও।

বঙ্গ ব্রিগেডের তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রীকে জেরা করে এবার ‘মিশন আকাশ’! ঝাড়খণ্ড পুলিশের সাথে নীল নকশা সাজিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে অভিযানে নামল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। এদিন মূলত একেবারে ঝাড়খন্ড ছুঁয়ে থাকা বান্দোয়ান এলাকায় অপারেশন শুরু হয়। আর এই অপারেশনের আগে স্পর্শকাতর এলাকায় মাও দমনে থাকা রাজ্য পুলিশের কুঁচিয়া শিবির ঘুরে টোটকা দিলেন বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। এদিন তিনি ঝাড়খণ্ড সীমানার করিডর বরাবর কয়েকটি গ্রাম ঘুরে বাহিনীর মনোবল বাড়ান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ারি জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসা করে দলমা পাহাড়ের চান্ডিল থানার আসনবনি গ্রাম থেকে একটি ম্যাগাজিন ভর্তি ইনসাস রাইফেল ও ২০৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়।

বুধবার ভোর রাতে ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়তলির সরাইকেলা- খরসোওয়া জেলার কাণ্ডরা থানার উদয়পুর ও নিমডি থানার কান্দেরবেড়া থেকে গ্রেপ্তার হন মদন মাহাতো, সাগর সিং ও তার স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়া। বৃহস্পতিবার সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ারি জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসা করে দলমা পাহাড়ের চান্ডিল থানার আসনবনি গ্রাম থেকে একটি ম্যাগাজিন ভর্তি ইনসাস রাইফেল ও ২০৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। এখনও যে সমস্ত মাও নেতা-নেত্রীরা জঙ্গলে আছেন তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।

Advertisement
ধৃতদেরকে জেরা করে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার ঝাড়খণ্ড পুলিশের। প্রতিদিন ছবি।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, বড় কোনও নাশকতা ঘটনার পরিকল্পনা করে মদন, বীরেন ও মীরা ওই এলাকায় এসেছিল। ধৃতদের গ্রেপ্তারির পর বর্তমানে আকাশের স্কোয়াডের সংখ্যা মাত্র ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে আকাশ ছাড়া রয়েছেন শচিন এবং তার স্ত্রী মিতা, ধৃত মদন মাহাতোর স্ত্রী বুলু ওরফে জবা এবং সমীর মাহাতো ও তার স্ত্রী মালতী।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, সারাণ্ডা থেকে বাহিনীর চাপে জঙ্গল বদল করে দলমা এলাকায় পুনরায় ফিরে আসে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ সহ মোট ৯ জন। ওই স্কোয়াডটি আবার সংগঠন সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে নিয়মিত তারা দলমা থেকে কাঁকরাঝোর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ওই এলাকায় ডেরা বদল করে সংগঠনের কাজ চালাচ্ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, বড় কোনও নাশকতা ঘটনার পরিকল্পনা করে মদন, বীরেন ও মীরা ওই এলাকায় এসেছিল। ধৃতদের গ্রেপ্তারির পর বর্তমানে আকাশের স্কোয়াডের সংখ্যা মাত্র ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে আকাশ ছাড়া রয়েছেন শচিন এবং তার স্ত্রী মিতা, ধৃত মদন মাহাতোর স্ত্রী বুলু ওরফে জবা এবং সমীর মাহাতো ও তার স্ত্রী মালতী।

Advertisement

ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, এই তিন মাও নেতা-নেত্রীদের গ্রেপ্তারিতে মনোবল ভেঙে পড়েছে আকাশ সহ তার স্কোয়াডের সদস্যদের। ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযান জোরদার করলো বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ। জঙ্গলে মাওবাদীদের খোঁজ সহ গ্রাম ঘিরে অচেনা লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় প্রবেশ করা সমস্ত ছোট-বড় সড়কে চার চাকা এমনকি বাইক থেকে সাইকেল আরোহীদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করা চলছে। তবে তিনজনকে ধরার পর আকাশের বর্তমান কোনো লোকেশন পাচ্ছে না পুলিশ এমনকি গোয়েন্দারাও। পুলিশের আশা এই পরিস্থিতিতে আকাশ ভেঙে পড়বেই! কারণ হতে গোনা সহযোদ্ধাদের নিয়ে এই পরিস্থিতিতে সংগঠন বিস্তারের কাজ করলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলতেই হবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই জঙ্গল লাগোয়া সমস্ত গ্রামেই বিশেষ সোর্স তৈরি করতে জোর দিয়েছে। অন্যদিকে বাহিনীর সামনা সামনি হলে গুলি যুদ্ধে নিশ্চিত তারা পরাজিত হবে এমন কথাই বলছে বাংলা-ঝাড়খন্ড পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.