সেবাশ্রয় যেন দুর্নীতির পাহাড়! এবার স্বাস্থ্য শিবিরের নামে গরিব মানুষদের সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যেয়ের বিরুদ্ধে। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার অভিযোগ, ওই ক্যাম্পে নাকি মডার্ন চিকিৎসার ওষুধ দিতেন জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ও আয়ুষ চিকিৎসরা। এখানেই শেষ নয়, ওই ক্যাম্পে থাকা এক চিকিৎকের দাবি, এমআরআই, স্ক্যানের নাম করে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ঘুরপথে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের টাকা হাতাতেন কালীঘাট তৃণমূলের সেনাপতি! যদিও এবিষয়ে এখনও অভিষেকের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রথম ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৭৫ দিনব্যাপী স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে সেবাশ্রয় শুরু হয়। দরিদ্ররা বিনামূল্যে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন। পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সেবাশ্রয় ক্যাম্প করা হয়। দরিদ্র মানুষদের সুবিধায় অভিষেকের এই কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই সকলের চোখে তাঁকে ‘হিরো’ করে তুলেছিল। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কিছুদিন আগেই ডায়মন্ড হারবার মহকুমার সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচে মিলেছিল বিপুল পরিমাণ ওষুধ। তাতে সেবাশ্রয়ের লোগো ছিল। তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। এবার শোনা যাচ্ছে, ওই স্বাস্থ্য শিবিরের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও বেলাগাম দুর্নীতি হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ? ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, “অভিযোগ যা শুনতে পাচ্ছি বা নিজেও জেনেছি, তা হল সেবাশ্রয়ে চিকিৎসক হিসেবে থাকতেন জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুষ চিকিৎসকরা। তারাই মর্ডান মেডিসিনের প্রেসক্রিপশন দিতেন। তাছাড়া প্রচুর ওষুধ মিলেছে মাটির নিচে। ওগুলোও সম্ভবত ভুয়ো বা নিম্নমানের, অন্যথায় মাটিতে পুঁতে দেওয়া হবে কেন?” শুধু বিজেপি নেতাই নয়, এই ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এক চিকিৎসকও। তিনি সেবাশ্রয়ের ক্যাম্পে থাকতেন। ঠিক অভিযোগ তাঁর? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানান, সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা হত হত বিনামূল্যে। কিন্তু ঘুরপথে রোগীদের থেকে আদায় করা হত মোটা টাকা। কীভাবে? ওই চিকিৎসক জানান, সেবাশ্রয়ে রোগীদের এমআরএই, সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হত। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে এই ধরণের পরীক্ষা লিখে দিলেই ময়দানে নামতেন সেবাশ্রয়ে থাকা বিভিন্ন হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা। তাঁদের দায়িত্ব ছিল, রোগীদের বুঝিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা। এরপর রোগীরা কেউ হাঁটু ব্যথা, কেউ অন্য কোনও সমস্যা দেখিতে ভর্তি হতেন হাসপাতালে। ১০-১২ দিন ভর্তি রাখায় চড়চড়িয়ে বাড়ত বিল। তা কাটা হতো স্বাস্থ্যসাথী ফান্ড থেকে। অর্থাৎ ঘুরপথে সরকারি প্রকল্পের টাকা চলে যেত অভিষেকের কাছে! বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই তাজ্জব সকলে। সূত্রের খবর, আগামিকাল এই দুর্নীতি নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে আরও একটি এফআইআর করতে চলেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?
-
চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী! চক্ষুদান করবেন? কী জানাল ক্লাব
-
রাষ্ট্রপতি সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, অভিযুক্ত আমলাকে ‘রিলিজ’ নবান্নের
-
প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সিএবি’তে, পঙ্কজ-পুত্রের পালটা, ‘সব অপপ্রচার’
-
‘দরিদ্র সেবাই শিবের পুজো’, বিবেকানন্দের মন্ত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুললেন জীতু