Nadia

ভারত সীমান্তে জমি লিজ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশিদের! তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল বিএসএফ

আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং এই ধরণের অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে সীমান্তজুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

রমণী বিশ্বাস
রমণী বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ২০:৫১

options
link
ভারত সীমান্তে জমি লিজ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশিদের! তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল বিএসএফ
ফাইল ছবি।

ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়াচ্ছে বাংলাদেশ! এবার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় কৃষকদের জমি বেআইনিভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছে দাদন (লিজ) দেওয়ার অভিযোগ। আর তা সামনে আসতেই কড়া অবস্থান নিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফ। তেহট্ট বিধানসভা এলাকার সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক সীমারেখায় এই ঘটনা ঘটেছে। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই বিএসএফের পদস্থ কর্তারা স্থানীয় বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ ও প্রধান শম্পা মন্ডল-সহ গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভাটুপাড়া গ্রামে এক জরুরি বৈঠক হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং এই ধরণের অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে সীমান্তজুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement

বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহট্টের বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চাষিদের সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী বদ্ধপরিকর। ভারতীয় জমিতে কোনওভাবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।

আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা এবং কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা কৃষিজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে কাঁটাতারের ওপারে ফসল ফলানোর পর বাংলাদেশিরা জোরপূর্বক তা কেটে নিয়ে চম্পট দিত বলে একাধিকবার অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের ক্রমাগত অত্যাচার এবং ফসল ঘরে তুলতে না পারার দরুন দিনের পর দিন ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ভারতীয় চাষিদের। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতীয় চাষিদের একাংশ বাধ্য হয়ে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জমি দাদন দিয়ে দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার নজরদারি এড়াতে অনলাইনের মাধ্যমে লেনদেন চলত বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জমি চাষের অজুহাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের এই অবাধ যাতায়াত সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি তৈরি করছিল। অতীতে এই সুযোগে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা ভারতীয় কৃষক এবং বিএসএফ জওয়ানদের ওপর একাধিকবার হামলাও চালিয়েছে।

Advertisement

আর এই তথ্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিএসএফ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন যৌথভাবে জিরো পয়েন্টের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহট্টের বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চাষিদের সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী বদ্ধপরিকর। ভারতীয় জমিতে কোনোভাবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। এরপরেও কোনও চাষি গোপনে জমি দাদন দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সন্দেহভাজন বা অনুপ্রবেশকারীর আনাগোনা চোখে পড়লেই তাৎক্ষণিক বিএসএফকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেহট্ট সীমান্ত ছাড়াও অন্য কোনো সংবেদনশীল এলাকা বা শূন্যরেখায় এই ধরণের বেআইনি লেনদেন বা অনুপ্রবেশ ঘটছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিএসএফ জওয়ানরা বিশেষ নজরদারি শুরু করেছেন। 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.