দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে মুন্নুরওয়াড়ি এলাকার শ্রী লক্ষম্মা মন্দিরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেবতা রূপে পূজিত হন। অথচ রেলশহর খড়গপুরের তেলেগু অধ্যুষিত মথুরাকাটি এলাকায় নেতাজির একটি মূর্তি শুক্রবার নেতাজির জন্মদিবসে অবহেলিত রইল। জন্মবার্ষিকীতে মূর্তিতে কেউ দিলেন না মালা। মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে নেতাজিতে কাউকে স্মরণ করতেও দেখা গেল না!
আরও পড়ুন:
নেতাজির মূর্তিতে মালা দেওয়ার দায়িত্ব কার? সেই নিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন ও বর্তমান কাউন্সিলের মধ্যে এই নিয়ে দ্বন্দ্বও সামনে এল। এই ঘটনার দায় কার? সেই নিয়ে ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে। একটি মালাও কেউ দিলেন না। অনাদরে সারাদিন নেতাজির মূর্তিটি পড়ে রইল। এই এলাকাটি খড়গপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ফলে এই নিয়ে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে শহরে। এই ব্যাপারে প্রাক্তন রেলকর্মী তথা সমাজসেবী সুন্দর রাও বলেন ” কাজটি ঠিক হয়নি। অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে। এই কাজটি যাঁদের করার দায়িত্ব ছিল তাঁদের এর দায় নিতেই হবে।”
বর্তমানে এই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বানতা মুরলি বলেন, “আমি জানি না ব্যাপারটা। আমি বাইরে রয়েছি। এটি হওয়া উচিত হয়নি। খুবই লজ্জার ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, “আসলে এই নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করা ও মূর্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আগের কাউন্সিলর অঞ্জনা শাকরে। তিনিই এই কাজটি করতেন বলে আমি এর মধ্যে ঢুকতাম না।” অপরদিকে এই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জনা শাকরেও দায় ঝেড়ে ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি এখন আর কাউন্সিলর নেই। এটা দেখার দায়িত্ব ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলরের।”
প্রসঙ্গত নিমপুরা রোডের ধারে মথুরাকাটি এলাকায় নেতাজির এই মূর্তিটি গড়ে তুলেছিলেন রেল শহর খড়গপুরের একসময়ের মাফিয়া ডন বাসব রামবাব! সেই বাম আমলে ২০০০ সালে তিনি যখন ফরোয়ার্ড ব্লকে যোগ দিয়েছিলেন, তখন রামবাবু এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বাংলার রাজনীতিতে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। পরে কার্যত অনাদরে খোলা আকাশের নিচে মূর্তিটি পড়ে থাকত বলে অভিযোগ। ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছিল মূর্তি ঘিরে। সেসময় শহরে শোরগোল শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জনা শাকরে উদ্যোগ নিয়ে মূর্তিটির মাথার উপর একটি আচ্ছাদন তৈরি করেছিলেন। চারপাশের ঝোপঝাড় কাটা হয়। তবে অনাদর রয়েই গিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এদিন একটি মালাও কেউ দিলেন না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা