Bhagavad Gita

পেট আগে না ধর্ম! বিভেদ ভুলে গাঁয়ের পথে গীতা বেচেন জীবনতলার রজ্জাক

পথের ধারে পুস্তকের আখড়া খুলেছেন কৃষক পরিবারের সন্তান। সারাদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গীতা বিক্রি করেন তিনি!

রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৯:০৬

options
link
পেট আগে না ধর্ম! বিভেদ ভুলে গাঁয়ের পথে গীতা বেচেন জীবনতলার রজ্জাক

ভাত না ধর্ম ! বঙ্গের রাজনৈতিক পারদের উথ্থান-পতনে বারবার উচ্চারিত হয় একথা। কখনও আমিষ প্যাটিস বেচে মার খান রেজাউল, আবার হিন্দু বলে কুনজরেও দেখেন অনেকেই! কিন্তু এমন আবহেই ফের নজির গড়ছেন কেউ কেউ। পেটের কথা মুখ্য রেখে এগোচ্ছেন এই বাংলার রজ্জাক মুন্সিরা! ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েও শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা বিক্রি করছেন এই বই বিক্রেতা। মেলা অথবা যেকোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সর্বত্র বিরাজ করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালিকাতলার বাসিন্দা। এদিনও তাঁর দেখা মিলেছে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের দক্ষিণ আখড়াতলায়।

Advertisement

ওই অঞ্চলেই ছিল গীতাপাঠের অনুষ্ঠান। আর সেখানেই পথের ধারে পুস্তকের আখড়া খুলেছেন কৃষক পরিবারের সন্তান। সারাদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চল্লিশের বেশি গীতা বিক্রি করেছেন তিনি। যাঁরা কিনেছেন প্রত্যেকেই ধর্মে হিন্দু! গীতার সঙ্গে বিক্রি হয়েছে হরেকরকম বইও। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, কেউ আবার পরম তৃপ্তিতেই গীতা কিনে এগিয়ে গিয়েছেন অনুষ্ঠানস্থলের দিকে।

Advertisement

কিন্তু কে এই রজ্জাক মুন্সি? কেন এমন কাজ? ওই বই বিক্রেতা বলছেন, ‘এই কাজ আমি গত চার-পাঁচ বছর ধরে করি। আমার ঠাকুরদাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বই বিক্রি করতেন। আমিও চাষবাসের পর, যখন সময় পাই চলে যাই।’ প্রশ্ন ওঠে না, কীভাবে সামলান? রজ্জাকের কথায়, ‘মাঝে মাঝে কেউ বলেন, মুসলিম কেন গীতা বিক্রি করবে! আবার কেউ কেউ প্রশংসাও করেন, তবে ভয় পাই না কোনও পক্ষকেই! আমি তো জলসাতে গিয়েও বই বিক্রি করি!’ কিন্তু চারিদিকে বিভেদের আবহেও কেন এমন কাজ, শুধুই কি পেটের টান? ন্যাজাটের রাস্তায় দাঁড়িয়ে বই বিক্রেতার দাবি, পেটের টান আছেই! আগে ধর্ম নাকি পেট বলুন তো! খিদে পেলে কী করবেন? আমি আমার কাজ করছি। এবার ভেদাভেদ মারামারির কথা বলছেন, যাঁরা করছেন তাঁরা জানেন, আমি মানুষ বুঝি, বিধর্মী কাজ পছন্দ করি না। মানবতা আগে, ধর্ম থাকবেই, কিন্তু কেউ তো কাউকে মারতে বলেনি!

Advertisement

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলেই মাঝে মাঝে শোনা যায় বহু কিছু। বিভেদ, ঘটনার ঘনঘটায় উত্তপ্ত হয় এলাকা। কিন্তু সব পেরিয়ে, ইছামতীর স্রোতের অনুকূলের মতো রজ্জাকরাই যেন বলে যান মানুষের কথা, শান্তির কথাও।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.