গত কয়েকদিনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এজেন্ট সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। এরমধ্যে গত শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। যেখানে ‘চিকেনস নেকে’র সুরক্ষা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিএসএফ এবং এসএসবির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই শাহের এই সফরের পরই সন্দেহজনক এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই যুবক একজন আফগান নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, নেপাল যাওয়ার আগে পানিট্যাঙ্কি অভিবাসন দপ্তরে গেলে আটক করা হয় ওই যুবককে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আফগানিস্তানী যুবকের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগসূত্র সামনে এসেছে। এরপরেই তাঁকে খড়িবাড়ি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই যুবককে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আফগান যুবকের এক ভারতীয় বন্ধুকেও।
আরও পড়ুন:
দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই.এস. জগন্নাথ রাও জানিয়েছেন, সীমান্তে অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার নেপাল সীমান্তে ধৃত আফগান যুবকের নাম আবদুল্লা খান। তাঁর ভারতীয় বন্ধুর নাম শঙ্কর বণিক। ধৃত আবদুল্লার কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড, ভারতীয় ভোটার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার হয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে লুক আউট সার্কুলার নোটিশ জারি করা হয়েছিল অভিযুক্ত এই আফগান যুবকের বিরুদ্ধে। কি করতে ভারতে এসেছিল ওই আফগান যুবক তা জানতে ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গোপনে স্পর্শকাতর চিকেনস নেকের তথ্য হাতানোর চেষ্টা! তাও তদন্তের রাডারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে থাকার সুবাদে টাকার বিনিময়ে জাল নথি তৈরি করে নেয় আবদুল্লা। থাকতেন হাওড়ার শিবপুরে। সেখানে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল বিধাননগরের দত্তাবাদের বাসিন্দা ভারতীয় বন্ধু শঙ্কর বণিক। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ তাদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আফগান যুবক ও তার বন্ধু শঙ্কর নেপাল হয়ে থাইল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই উদ্দেশ্যে গত রবিবার দুপুরে তারা পানিট্যাঙ্কি অভিবাসন দপ্তরে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য যায়। সেখানে কর্মরত আধিকারিকরা ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস সাইটে চেক করার সময় দেখতে পান যে, আবদুল্লা খানের বিরুদ্ধে একটি লুক আউট সার্কুলার নোটিস রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পানিট্যাঙ্কি অভিবাসন দপ্তর থেকে তাদের আটক করে খড়িবাড়ি থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা যৌথভাবে সারারাত ধরে তাদের ম্যারাথন জেরা করেন। জেরার পর ধৃতদের বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র তৈরি, প্রতারণা, ইমিগ্রেশন ও ফরেনার্স অ্যাক্ট এবং আধার আইনের বিভিন্ন ধারায় নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়। সোমবার তাদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই.এস. জগন্নাথ রাও জানিয়েছেন, সীমান্তে অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এফআরআরও নির্দেশিকা অনুযায়ী লুক আউট সার্কুলার থাকায় এবং নথিপত্র সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, চলতি বছরের জুলাই মাসে কলকাতার ভবানীপুর এলাকা থেকে জামিল খান নামে এক আফগান নাগরিককে ভুয়ো নথিপত্র তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকী গত কয়েকদিন আগে হাওড়া থেকেও জঙ্গি সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সর্বশেষ খবর
-
বাবা পরিযায়ী শ্রমিক, বহু কষ্টে পড়াশোনা, নিটে সফল আতাউলের স্বপ্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া
-
ফি বৃদ্ধি, হয় না ক্লাস! পাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালাম, পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মাঝেই গুলি সেনা আধিকারিকের
-
লক্ষ্য পাহাড়ের উন্নয়ন, এবার কলকাতায় শমীকের সঙ্গে বৈঠকে গোর্খা নেতা গুরুং
-
প্রদেশ কংগ্রেসে আরও কোনঠাসা অধীর! বাতিল রবিবারের যোগদান, তৃণমূলীদের নিয়ে আপত্তি এআইসিসির
-
সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন জয়শংকর