North Bengal

কাঁটাতারে মাথায় হাত চোরাকারবারিদের! বাংলাদেশ থেকে বিএসএফকে লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে পাথর

বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, "কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত সিল করা হলে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের রুজিতে টান পড়বে। তাই ওরা যেভাবে হোক বিএসএফের কাজ ভেস্তে দিতে চাইছে। কিন্তু সেটা হবে না। সীমান্ত সিল করা হবেই।''

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০২৬, ১৯:১৬

options
link
কাঁটাতারে মাথায় হাত চোরাকারবারিদের! বাংলাদেশ থেকে বিএসএফকে লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে পাথর
সীমান্তে পাহারায় জওয়ানরা। ফাইল ছবি

তরাইয়ের ফাঁসিদেওয়া হোক অথবা কোচবিহারের চ্যাংড়াবান্ধা—ছবিটা একই! অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও পাচার বন্ধের জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হতেই বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের মাথায় হাত পড়েছে! সীমান্তে ধারালো অস্ত্র, বাশ নিয়ে জড়ো হয়ে গোলমাল পাকাতে মরিয়া হচ্ছে দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, সীমান্তে চলা বিএসএফের কাজকে ব্যহত করতে ভারতীয় জওয়ানদের লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া হচ্ছে পাথর। যদিও কড়া হাতে পরিস্থিতির সামাল দিচ্ছে বিএসএফ। শুধু তাই নয়, চলছে সীমান্ত ‘সিল’ করে দেওয়ার কাজও।

Advertisement

আজব কান্ড। উন্মুক্ত সীমান্তে নিজের জমিতে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ‘গেলো গেলো’ রব উঠেছে। ভাবখানা এমন যেন ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফ ওদের ভিটেমাটি দখল করছে! বেড়া দেওয়ার কাজ ঠেকাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে মারমুখী হচ্ছে। শিলিগুড়ি মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ফাঁসিদেওয়া এলাকায় উন্মত্ত বাংলাদেশিদের একাংশকে বিএসএফ-কে উদ্দেশ্য করে বৃষ্টির মতো পাথর ছুড়তে দেখা গিয়েছে। প্ররোচনার ফাঁদে পা না-দিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা জখম হলেও গুলি চালায়নি। কাজ জারি রেখেছে। কিন্তু সীমান্তের বাংলাদেশিদের কেন এমন মারমুখী আচরণ? শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত সিল করা হলে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের রুজিতে টান পড়বে। তাই ওরা যেভাবে হোক বিএসএফের কাজ ভেস্তে দিতে চাইছে। কিন্তু সেটা হবে না। সীমান্ত সিল করা হবেই।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত সিল করা হলে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের রুজিতে টান পড়বে। তাই ওরা যেভাবে হোক বিএসএফের কাজ ভেস্তে দিতে চাইছে। কিন্তু সেটা হবে না। সীমান্ত সিল করা হবেই।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও উন্মুক্ত। রাজ্যে পালাবদলের পর সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে প্রথম দফায় ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হবে। বাকি ৯ কিলোমিটার জমিতে বিএসএফ ফাঁড়ি ও পরিকাঠামো গড়ে তুলবে। কিন্তু সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় বেড়া নির্মাণ ও জমি মাপজোকের কাজ ঘিরে আপত্তি তুলেছে বিজিবি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কয়েকটি অঞ্চলে বিএসএফের কাজের বিরোধিতা করা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

অতীতেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ঘিরে বিএসএফ ও বিজিবি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। সেই সঙ্গে জুড়েছে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের আস্ফালন। সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে উত্তাপের পারদ চড়ছে। ওই পরিস্থিতিতে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা, শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া সহ উত্তরের একাধিক সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যে জমি মাপজোক ও বেড়া নির্মাণের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী ভারতীয়দের একাংশের মতে, বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ এবং অপরাধ অনেক কমবে। ফলে দ্রুত এই কাজ করার দাবিও জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। এদিকে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ করতে ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এরমধ্যে ৮০ একর জমি রয়েছে ভারতের মধ্যে বাংলাদেশি ছিটমহল দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকায়। অভিযোগ, সেখানে জমি জরিপের কাজ করতে গেলে কিছু বাংলাদেশি বাসিন্দা এবং বিজিবি সদস্যরা আপত্তি জানালে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিএসএফ ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়নি। কারণ, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তরের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতার জন্য সীমান্ত সুরক্ষার কাজ ব্যাহত হয়েছে। এখন সমস্যা নেই। অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, জাল নোটের প্রচলন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ মোকাবিলার জন্য আরও শক্তিশালী বেড়া তৈরি হবে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা এখন দেশের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্তে পরিণত হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.