‘খুনের কড়া শাস্তি হবেই! দরকারে অভিযুক্তদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ শনিবারই বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন। বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক। হাওড়া জেলা পুলিশ ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে শেখ সৈফুদ্দিন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “প্রশান্ত খুনের ঘটনায় সিট তৈরি করে তদন্ত শুরু হয়। ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছিল। ধরা পড়েছে ১০ জন। দরকারে পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি এসপিকে বলেছি। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।”
বাগনানে বিজেপি কর্মী খুনে মোট ৫১ জনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এই ঘটনায় আগেই ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছিল। এবার জালে আরও এক অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত শেখ সৈফুদ্দিনের নাম ছিল এফআইআরের ৪৩ নম্বরে। এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। এখনও খুনের ঘটনায় অধরা ৪০ অভিযুক্ত। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত ২১ তারিখ থেকে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
শনিবার বিকেলে বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়ি গিয়ে পরিবারকে আশ্বাস দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “প্রশান্ত খুনের ঘটনায় সিট তৈরি করে তদন্ত শুরু হয়। ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছিল। ধরা পড়েছে ১০ জন। আমি বলছি, দরকারে পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি এসপিকে বলেছি। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কেয়ক ঘণ্টার মধ্যেই জালে আরও এক অভিযুক্ত। জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামপুর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
গত ১৭ জুন রাতে বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি, বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত দে খুন হয়েছিলেন। বিজেপির দাবি, একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সেখানেই তাঁদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রশান্ত দে-র। তাঁর খোঁজে বারবার ফোন করেন বাড়ির লোকজন। কয়েকবার ফোন না ধরলেও শেষবার ফোনে জানানো হয়, “মার্ডার করে দিয়েছি, নিয়ে যা। তোরা কেউ এলেও খুন করে ফেলব।” এতে অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূলের উপপ্রধান মফিজুল রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
শনিবার সম্ভবত তাঁকে নিশানা করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, পাতাল থেকে খুঁজে এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, “গ্রেপ্তার পর্ব শেষের পর আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীনই চার্জশিট তৈরির কাজ হবে। দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে এখানে কেউ আর আইন হাতে তুলে নিরীহ মানুষদের উপর বিন্দুমাত্র অত্যাচার করার সাহস না পায়। বোঝাতে হবে, আইনের শাসন চলবে। এতদিন শাসকের আইন চলত বলেই আজ এই পরিস্থিতি হয়েছে।” যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল উপপ্রধান এখনও অধরা।
সর্বশেষ খবর
-
একবার ভিজলেই দফারফা! বর্ষায় চামড়ার জুতোর যত্ন নেবেন কীভাবে?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার মুখে টিম ইন্ডিয়া, সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে সুযোগ পাবে বৈভব?
-
এবার কলকাতার রাস্তা হকারমুক্ত হবে? বড় ইঙ্গিত দিলীপ ঘোষের
-
এক সপ্তাহের ডেডলাইন! জবরদখল হঠাতে শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুতে নোটিস পুরসভার
-
জগন্নাথের মতোই স্নানযাত্রা কালীঘাটেও, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় মিলল শাক্ত-বৈষ্ণব ধারা