Bankura

সন্ধ্যা নামলেই ঘোরে অশরীরী! বাঁকুড়ার ‘ভূতের গ্রামে’র একমাত্র বাসিন্দা লক্ষ্মণ

ভয়াবহ মহামারিতে উজাড় হয়ে গিয়েছিল গ্রাম।

টিটুন মল্লিক
টিটুন মল্লিক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১৫:২২

options
link
সন্ধ্যা নামলেই ঘোরে অশরীরী! বাঁকুড়ার ‘ভূতের গ্রামে’র একমাত্র বাসিন্দা লক্ষ্মণ
বাঁকুড়ায় সন্ধ্যা নামলেই ঘোরে অশরীরী!

ভূতের গ্রাম! এটাই পরিচয়। ভয়ে ধারেকাছে কেউ যান না। বাঁকুড়ার (Bankura) চালিবাড়িরডিহি তাই ‘ভূতের গ্রাম’ নামেই পরিচিত। মুখে মুখে ঘোরে রহস্য কাহিনী। জানা যায়, এক সময়ে বহু মানুষ এখানে বসবাস করতেন। ভয়াবহ মহামারিতে উজাড় হয়ে গিয়েছিল গ্রাম। তারপর থেকেই নানা ভয়ের কাহিনি। অশরীরী নাকি ঘুরে বেড়ায়। এই মুহূর্তে সে গ্রামের বাসিন্দা মাত্র একটি পরিবার।

Advertisement

১৯৮২ সালে লক্ষ্মণ বাউড়ি সাহস করে পরিত্যক্ত গ্রামে ফিরে ঘর বাঁধেন। ছোট্ট কুঁড়েতে নতুন সংসার। সাহস করে ধীরে ধীরে আরও ১৫টি পরিবার ফিরে আসে। কিন্তু বছর দশেক আগে এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড বিশ্বাস ভেঙে দেয়। নিজের শিশুসন্তানকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে এক মহিলার বিরুদ্ধে। তারপরই আবার শুরু ভূতের গল্প। এতটাই ভীতি ছড়ায় যে, ১৫টি পরিবারই গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু একজন ছাড়া। আজও সেই জনশূন্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন একমাত্র বাসিন্দা লক্ষ্মণ বাউরি। স্ত্রী রিনা বাউড়ি ও তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর বসবাস। আপনি কি ভূত দেখেছেন? কোন সাহসে রয়ে গেলেন? প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন লক্ষ্মণ। তারপর আক্ষেপ, “চারদিকে কেউ নেই, সন্ধ্যা নামলেই নির্জনতা। নানারকম আওয়াজ হয়। অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে মন চায় না।”

Advertisement

যদিও ওই গ্রামে ভূত নেই বলে দাবি করে বিজ্ঞানমঞ্চের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক জয়দেব চন্দ বলেন, “হ্যাঁ, ওটাকে সবাই ভূতের গ্রামই বলে। আসলে দীর্ঘদিন ধরে মনে গেঁথে যাওয়া অন্ধবিশ্বাস। যুক্তিবাদী মন তৈরি করার কর্মসূচি প্রয়োজন।” সত্যিই কি চালিবাড়িরডিহিতে ভূতেরা থাকে? কেন পালাল এত পরিবার? কেনই বা রয়ে গেলেন লক্ষ্মণ। এর উত্তর অজানা। বাস্তব এটাই, কেউ এই গ্রামের ধারেকাছে যেতে চান না। ভয়ডরহীন একা লক্ষ্মণই।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.