পরীক্ষার্থী ১১ লক্ষ, মাধ্যমিকে এই প্রথম বসছে না কোনও জেলবন্দি

৬৭ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ১৪:৪৮

options
link
পরীক্ষার্থী ১১ লক্ষ, মাধ্যমিকে এই প্রথম বসছে না কোনও জেলবন্দি
ছবি: প্রতীকী

দীপঙ্কর মণ্ডল: বন্দি জীবনে জেলে বসেই এমএ, এমএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া নতুন নয়। রাজ্যের সংশোধনাগারগুলি থেকে প্রতি বছরই সাফল্যের সঙ্গে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পাস করেছে অগুনতি বন্দি। সোমবার শুরু মাধ্যমিক। পরীক্ষার্থী এগারো লক্ষের বেশি। কিন্তু চলতি বছরে জেল থেকে মাধ্যমিকে বসার আবেদন একটিও আসেনি। ৬৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জেলবন্দি পরীক্ষায় বসছেন না। বিস্মিত মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কেন এমন হল তা নিয়ে কারা দপ্তরের অফিসাররা মুখ খোলেননি। এবার মাধ্যমিকে একজনও জেলবন্দি না থাকার খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, “গতবছর তিনজন বন্দির জন্য মাধ্যমিকে বসার ব্যবস্থা হয়েছিল। এ বছর এখনও কেউ আবেদন করেনি।”

Advertisement

[রাজ্যসভায় শান্তনু সেন, আবির বিশ্বাসকে প্রার্থী করে চমক মমতার]

কয়েক বছর আগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক বন্দি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তরে পরীক্ষা দিয়ে স্বর্ণপদক পান। রাজ্যপাল এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। এমন উদাহরণ আরও বেশ কয়েকটি আছে। কারা দপ্তর জানিয়েছে, বন্দিরা কোনও পরীক্ষায় বসার আবেদন করলে সরকার তা মঞ্জুর করে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের পরীক্ষায় বন্দিরা যাতে ভাল ফল করে তা নিশ্চিত করতে টিউশনও দেওয়া হয়। রাজ্যের বেশ কিছু সংশোধনাগারে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টাডি সেন্টার’ আছে। বন্দিদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বনির্ভরও করা হচ্ছে। কিন্তু এবার কেন কেউ মাধ্যমিকে বসার আবেদন করেনি তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারা দপ্তরের প্রধান সচিব রাজ কানোজিয়া এবং দফতরের ডিজি-আইজি অরুণ গুপ্তা কেউ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পর্ষদের আধিকারিকরা পরীক্ষা শুরুর দিনে সংশোধনাগারে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেন। অন্য পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির মতোই সেখানে পরীক্ষক নিয়োগ হত। লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগীতায় কেউ কেউ ঈর্ষণীয় ফল করেছে। সেই ছবি চলতি বছরে আর দেখা যাবে না। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রশাসক কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অনেকে অসুস্থতার জন্য ফর্ম ফিল-আপ করতে পারেনি। তাদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে এখনও কোনও সংশোধনাগার থেকে মাধ্যমিকে বসার আবেদন এলে তা বিবেচনা করা হবে।” তবে সেই সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে কারা দপ্তর। পর্ষদ সূত্রে খবর, গত কয়েক বছর ধরে সংশোধনাগারগুলি থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা কমছে। পরীক্ষা দিতে সক্ষম এমন বন্দিরা সবাই মাধ্যমিক পাস করে গিয়েছে বলে মনে করছেন পর্ষদের কর্তারা।

Advertisement

[আরও বিপাকে শামি, স্ত্রীর অভিযোগে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করল পুলিশ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.