অবশেষে পুলিশের জালে বারাবনির ‘ত্রাস’ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা (TMC Leader Arrested) অসিত সিং। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার তাঁর কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অসিত, তাঁর ভাই ও এক সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে অসিতের ছোটো ভাইকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ধৃত ৩ জনকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। আদালতে ঢোকার মুখে অসিত সিংকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। দেখানো হয় জুতো। এমনকি অসিতকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার চেষ্টাও করা হয়। এই আবহে পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। অসিতের গ্রেপ্তারিতে এলাকার বিজেপি কর্মীরা বাজি ফাটিয়ে আনন্দে মাতেন।
বারাবনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসিত সিংয়ের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়খণ্ড সীমানার ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে তাঁকে এবং তাঁর ভাই তথা পানুরিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় তাঁদের সহযোগী তৃণমূল নেতা আকবর আলমকেও।
উল্লেখ্য, আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন অসিতের ছোটো ভাই পিন্টু সিং। বৃহস্পতিবার পিন্টুর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হল। এর মধ্যে দিয়ে বারাবনিতে অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ‘সিং ব্রাদার্স’-এর গ্রেপ্তারির বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। নিরাপত্তার কারণে বৃহস্পতিবার রাতে ধৃতদের বারাবনির বদলে হীরাপুর থানায় রাখা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, পলাতক বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও জোরদার তল্লাশি চলছে। এর আগে গত ১৮ জুন সালানপুরের আর এক তৃণমূল নেতা ভোলা সিংকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
বারাবনি এলাকায় দীর্ঘদিনের ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত অসিত সিংয়ের এই গ্রেপ্তারিতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারির খবর ছড়াতেই এলাকায় বাজি ফাটিয়ে উল্লাসে মাতেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। অসিত সিংয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নির্দেশেই তৎকালীন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র গাড়িতে, সিপিএম প্রার্থী গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে এবং বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকী, এই দাপুটে নেতার জন্মদিনে খোদ থানায় বসে কেক কেটে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৎকালীন বারাবনি থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। এই ঘটনার জেরে চরম বিতর্কের মুখে পড়ে তাঁকে সাসপেন্ডও হতে হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফুটবলের পর এবার ক্রিকেটেও মালিকানা, নতুন দল কিনলেন জন আব্রাহাম, সঙ্গী জন্টি রোডস
-
জঙ্গলে লুকিয়ে ১০০০ বছরের প্রাচীন শহর, কেন হয়েছিল জনশূন্য? হতবাক গবেষকরা
-
পার্টনারের সঙ্গে কখনওই ঝগড়া হয় না বলে গর্ব করেন? নেপথ্যে থাকতে পারে ৪ জটিল মনস্তত্ব
-
চিরকালের জন্য বাকিংহাম প্যালেস ছাড়লেন রাজা চার্লস! হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
-
স্বাস্থ্যকর খাবার বানাতে সর্বক্ষণ এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার, ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে না তো?