Santiniketan

‘হেরিটেজ’ বিশ্বভারতী চত্বরে ব্যাঙ্কোয়েট হল! ‘অরবিন্দ আশ্রমের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা’, ক্ষোভ শান্তিনিকেতনে

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে এই আশ্রম। অরবিন্দ নিলয় সরাসরি পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের একটি শাখা।

দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০২৬, ২১:০৩

options
link
‘হেরিটেজ’ বিশ্বভারতী চত্বরে ব্যাঙ্কোয়েট হল! ‘অরবিন্দ আশ্রমের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা’, ক্ষোভ শান্তিনিকেতনে
শান্তিনিকেতনে অরবিন্দ নিলয়ের ফাইল ছবি।

শান্তিনিকেতনে অরবিন্দ নিলয়কে ঘিরে একের পর এক বাণিজ্যিক নির্মাণের অভিযোগ। ঐতিহ্যের বদলে ২৮ শয্যাবিশিষ্ট অতিথিশালা, কংক্রিটের ব্যাঙ্কোয়েট হল নির্মাণ। বিশ্বভারতীর বাফার জোনে এহেন নির্মাণ ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আর তা নিয়েই অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। অভিযোগ, ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে ঋষি অরবিন্দ গবেষক প্রয়াত শিশির ঘোষের বাসভবন। বিষয়টি পুদুচেরির মূল অরবিন্দ আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের কাছেও লিখিত আবেদন জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

Advertisement

অভিযোগ, ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে ঋষি অরবিন্দ গবেষক প্রয়াত শিশির ঘোষের বাসভবন। বিষয়টি পুদুচেরির মূল অরবিন্দ আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী বিশ্বভারতীর ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গৌতম ঘোষাল বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ঋষি অরবিন্দের ভাবাদর্শিক সম্পর্কের ঐতিহ্য বহন করে চলছে শান্তিনিকেতনের অরবিন্দ নিলয়। প্রতিদিন বহু অনুরাগী আজও উপাসনায় অংশ নেন। কিন্তু বর্তমানে আশ্রমটি স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণে নেই। অধিকাংশ সময় গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়, ফলে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান। আশ্রমের পরিবেশ নষ্ট করে সেখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম, অতিথিশালা ও ব্যাঙ্কুয়েট হল নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে। এর জন্য অধ্যাপক শিশির ঘোষের বাড়ি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে এই আশ্রম। অরবিন্দ নিলয় সরাসরি পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের একটি শাখা। ঋষি অরবিন্দের প্রধান সহযোগী মীরা আলফাসা, যিনি ‘শ্রীমা’ নামে পরিচিত, তাঁর উদ্যোগেই শান্তিনিকেতনে এই আশ্রম গড়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঋষি অরবিন্দের মানবতাবাদী দর্শনের মিলনক্ষেত্র হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। অনুরাগীদের দাবি, অরবিন্দ নিলয় বিশ্বভারতীর ইউনেস্কো স্বীকৃত হেরিটেজ এলাকার বাফার জোনের মধ্যে অবস্থিত। ফলে সেখানে বৃহৎ আকারের বাণিজ্যিক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অরবিন্দ নিলয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রঞ্জন মিটার বলেন, “পরিকল্পনার নথিতে হয়তো ‘ব্যাঙ্কুয়েট’ শব্দটি রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এখানে অতিথিশালা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু শিশির ঘোষের বাড়ি নয়, আশ্রমের আরও কয়েকটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। সেগুলির সংস্কারের কথাও ভাবা হচ্ছে। অরবিন্দ আশ্রম কখনও আইনবিরুদ্ধ কোনও কাজ করবে না।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.