Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
Jadavpur University

লেনিন নয়, হৃদয় সম্রাট শিবাজি! ‘লাল’ যাদবপুরে পালিত ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’

তথাকথিত ‘লালদুর্গ’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এমন উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ০০:০৮

link
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ০০:০৮

options
link
লেনিন নয়, হৃদয় সম্রাট শিবাজি! ‘লাল’ যাদবপুরে পালিত  ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’ zoom
আরএসএসের গেরুয়া পতাকা উড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর ইতিহাস গড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রথম আরএসএসের ‘গুরু’ গেরুয়া ধ্বজ উড়ল ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই পালিত হল ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’। শনিবার শাখার সময় অর্থাৎ সকালে এই দিবস পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্র, কর্মচারীরা। প্রায় ১৫ জনের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের কাছেই পালিত হয় এই দিবস। মালা দেওয়া হয় ভারত মাতা এবং ছত্রপতি শিবাজির প্রতিকৃতিতে। 

বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে বাংলায়। এবার সেই আবহে প্রায় মাসখানেকের বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ‘শাখা’ হচ্ছে আরএসএসের। মুখ্য শিক্ষক পলাশ মাঝির নেতৃত্বে চলছে শাখা। এবার সেই আবহেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এমন উৎসব পালন অত্যন্ত গুরুত্বের।

কিন্তু কেন ইতিহাস গড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়? উল্লেখ্য, ১৬৭৪ সালের ২৭ জুলাই ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের রাজ্যভিষেক হয়। হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত শিবাজি মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হন। আর এই দিনটিকেই উৎসব হিসেবে পালন করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএস। তাদের বার্ষিক ৬টি উৎসবের দ্বিতীয় উৎসব এই হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস। তথাকথিত ‘লালদুর্গ’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এমন উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই পালিত হল ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’।

ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর কার্যত তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল। রাজ্যে বিরোধী শক্তি হিসেবে নড়বড়ে বামেরা। ঠিক এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাদবপুরে বেশ কয়েক বছর ধরে হুল ফোটাতে চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। বারবার অল্প লোকবল নিয়েও ক্যাম্পাসে সম্মুখসমরে নেমেছেন ‘জাতীয়বাদী ছাত্র’রা। ঠিক এই অবস্থায় রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে বাংলায়। এবার সেই আবহে প্রায় মাসখানেকের বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ‘শাখা’ হচ্ছে আরএসএসের। মুখ্য শিক্ষক পলাশ মাঝির নেতৃত্বে চলছে শাখা। এবার সেই আবহেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এমন উৎসব পালন অত্যন্ত গুরুত্বের।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী অর্থাৎ আরএসএসের পলাশ মাঝি বলছেন, ‘স্বাধীনতার পরেও কংগ্রেসের মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের চরম ক্ষতি করেছে। বাম আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে তার ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষে স্বাভিমান ও অধিকার নিয়ে বাঁচতে অমানুষিক লড়াই এখনও করছেন। দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে এখন রাষ্ট্রবাদী সরকার। তা সত্যেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনও অনেক হুমকির সম্মুখীন। এই হুমকির মধ্যে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা শিবাজী মহারাজ।’ প্রায় একই সুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরন্তর লড়াই করা ছাত্র সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তাঁর দাবি, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ নয় মাসখানেক আগে থেকে আরএসএস শাখা হয়েছে। তাতে জাতীয়তাবাদীরা যোগ দিচ্ছেন। এদিন হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস পালিত হয়েছে। যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, দেশের জন্য সবকিছু করতে রাজি, তাঁরা জানেন শিবাজি মহারাজ এবং আজকের এই দিনে গুরুত্ব কী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বাইরে নয়, সেখানে এটা এবার প্রথম হলেও এবার প্রত্যেক বছরই হবে।’ 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.