কঙ্কালের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কিছু প্রাচীন রূপোর মুদ্রা। আর সেই মুদ্রার গায়ে খোদাই করা দু’জন মল্লযোদ্ধার লড়াইয়ের দৃশ্য। মাটির তলা থেকে পাওয়া এই এক টুকরো ইতিহাস যেন আচমকাই আড়াই হাজার বছর আগের এক রোমাঞ্চকর আঙিনায় পৌঁছে দিল গবেষকদের। তুরস্কের অ্যাসপেনডসে সম্প্রতি উদ্ধার হল ২৪০০ বছর পুরনো এক অক্ষত পাথরের কফিন। প্রত্নতত্ত্বের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘সারকোফেগাস’। আর সেই কফিনের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন এক প্রাচীন মল্লযোদ্ধা!

আরও পড়ুন:
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক। তখন আজকের আধুনিক ক্রীড়াবিশ্বের জন্ম হয়নি। অথচ আখড়ার ধুলো উড়িয়ে রিঙে নামতেন শরীরচর্চাবিদেরা। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যাসপেনডস শহরটি সেই সময়েই ছিল কুস্তির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। প্রাচীনকালের সেই জনপ্রিয়তার কথাই যেন নতুন করে প্রমাণ করল প্রত্নতাত্ত্বিকদের সদ্য পাওয়া এই আবিষ্কার।

গত ১০ আগস্ট তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রকের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে খবরটি সকলের সামনে আনা হয়। খননকাজের সময় গবেষকরা একটি বিশালাকার পাথরের কফিনের হদিস পান। কফিনটি খুলতেই ভেতরে ভেসে ওঠে একটি প্রকাণ্ড কঙ্কালের দেহাবশেষ। কালচক্রে যা প্রায় পাথরে পরিণত হয়েছে। প্রথম দর্শনে সাধারণ মনে হলেও, কফিনের পাশে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করতেই চমকে ওঠেন বিজ্ঞানীরা। কঙ্কালের পাশেই সাবধানে রাখা ছিল একাধিক রহস্যময় রূপোর মুদ্রা। সেগুলির ওপর ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল কুস্তির নানা প্যাঁচের দৃশ্য।

কেবল চেহারার বিশালত্ব দেখে নয়, কবরের ভেতর থেকে পাওয়া এই স্মারক ও মুদ্রার অলঙ্করণ দেখেই গবেষকেরা নিশ্চিত হন যে, মৃত ব্যক্তি তৎকালীন যুগের এক খ্যাতনামা কুস্তিগির ছিলেন। অ্যাসপেনডস শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং কুস্তির গভীর সংস্কৃতির সঙ্গে এই প্রত্নসামগ্রীর সরাসরি যোগ স্পষ্ট। ক্রীড়াবিদের প্রতি চরম শ্রদ্ধা জানাতেই মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় লড়াইয়ের প্রতীক খোদাই করা মুদ্রা দিয়ে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Aspendos Antik Kenti’nde yürüttüğümüz kazılarda, kentin Klasik Dönem tarihine ışık tutan çok önemli bir keşfe ulaştık.
Kent içinde varlığı ilk kez tespit edilen Doğu Nekropolisi’nde, MÖ 5. yüzyılın son çeyreği ile MÖ 4. yüzyıl arasına tarihlenen bir sandık tipi mezarı gün yüzüne… pic.twitter.com/FKKcmwOZYm
— Mehmet Nuri Ersoy (@MehmetNuriErsoy) August 10, 2026
প্রাচীন সমাজের শেষ যাত্রার এই প্রথা ও অলঙ্করণ শুধু একজন বীর যোদ্ধার স্মৃতি বহন করে না, বরং তৎকালীন খেলাধুলার প্রতি মানুষের বিপুল ভালোবাসার কথাই তুলে ধরে। মাটির গভীরে ২৪০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এই কঙ্কাল ও রৌপ্যমুদ্রা ক্রীড়াইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গোলের বন্যায় অনন্য নজির, বিশ্বকাপ শেষে চারটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে হালান্ড
-
ইমরান হাশমির দাপুটে প্রত্যাবর্তন, মানবপাচার, মাফিয়া দৌড়াত্ম্যে কেমন হল ‘আওয়ারাপন ২’?
-
বিশ্বের সেরা ১০০ সি-ফুডে চিংড়ির মালাইকারি, রয়েছে আরও এক ভারতীয় পদ, বানান বাড়িতেই
-
জাতীয় পতাকায় ১৭ বার বদল, স্বাধীনতা দিবসের আগে জেনে নিন সেই ইতিহাস
-
‘নির্মল ঘোষ হলে মমতা কেন নয়?’ অভয়া কাণ্ডের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা