শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভাঙতে প্রয়োজনীয় ‘মাস পিটিশন’ তৈরি করা হয়েছিল পুরুলিয়া (Purulia) জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে। পুরুলিয়া শহরের হরিপদ সাহিত্য মন্দিরে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন হাইকোর্টের রায়ে আবার পুরপ্রধান পদ ফিরে পাওয়া নবেন্দু মাহালি। শুধু তাই নয়, তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, পুর বোর্ড ভাঙার আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য চলায় ভোটের সময় পরিবর্তনের পক্ষেই কাজ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে থাকা আর সম্ভব নয়। আর তাই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাও করেন নবেন্দু। তবে বিজেপি ডাকলে অবশ্যই সেখানে যোগ দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে পুরুলিয়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিভাসরঞ্জন দাসও দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সোরেনকে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়েন। এই পুরসভা পরিচালিত হবে অফিস অফ কাউন্সিলরের বিধি মেনেই, সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই জানিয়েছেন নবেন্দু। এখানে কোন দলীয় নির্দেশ চলবে না বলেও তৃণমূলকে খোঁচা দেন তিনি। তাঁর কথায়, ”এখন মৃত তৃণমূল ও ঋত তৃণমূল।” এদিকে নবেন্দুকে পালটা ‘গদ্দার’ বলে তোপ দেগেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন:
নবেন্দুর কথায়, ২১ জুলাই-র মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ফল খারাপের পেছনে পুর বোর্ড ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে এই পুর বোর্ড ভাঙা হয় সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক কারণে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে নবেন্দু মাহালি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, পুরুলিয়া পুর বোর্ড চালাতে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল! শহরের যানজট থেকে উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি সরব হলেও দল তাঁকে সব সময় বাধা দিয়ে গিয়েছে। কৈফিয়ৎ চেয়েছে। দলের হস্তক্ষেপে বহু উন্নয়নের কাজে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নবেন্দু। কীভাবে রাজনৈতিকভাবে এই পুর বোর্ড ভাঙা হল এবং তারপর কীভাবে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলেন তাঁরা, এদিন তাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি আমাদের উকিল বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমার আশা খুব শীঘ্রই রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক বিভাগ এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভাঙতে যে ‘মাস পিটিশন’ প্রয়োজন তা তৈরি হয়েছিল পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে।” এই বোর্ড ভাঙার পিছনে যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে এদিন তা আরও একবার তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর কথায়, ”২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া পুর শহরে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা দলের জেলা সভাপতি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলেন পুরুলিয়া পুরসভাতে খারাপ ফলের কারণেই পুরুলিয়া লোকসভা আসনে দলীয় প্রার্থী হেরে গিয়েছে। বাঘমুন্ডিতে তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। সেখানে অনেকখানি পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। পিছিয়ে ছিল পাড়া বিধানসভা এলাকায়। এমনকী বলরামপুর বিধানসভার পুরুলিয়া ১ ব্লকও উল্লেখযোগ্য ভাবে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু সেখানে দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে যেখানে যেখানে লোকসভায় শহর এলাকায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছে। সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নবেন্দুর কথায়, ২১ জুলাই-র মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ফল খারাপের পেছনে পুর বোর্ড ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে এই পুর বোর্ড ভাঙা হয় সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক কারণে।” এই পুরবোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত যে দলের কোনও কাউন্সিলর মেনে নিতে পারেননি, তাও তুলে ধরেন নবেন্দু।
অন্যদিকে এই আইনি লড়াই-এ যে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো সাহায্য করেন এদিন সেই কথা বলেন নবেন্দু। তিনি বলেন, “আমি যখন পুরপ্রধান ছিলাম তখন সাংসদ, বিধায়কের উন্নয়নের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছি। তাতে দল আমার কাছে কৈফিয়ত চেয়েছিল। আমি তো পুরপ্রধানের চেয়ারে ছিলাম। আমার তো দলমত নির্বিশেষে উন্নয়ন করা উচিত। আমি সেই কাজ করেছি। এই শহরের মানুষজনকে পরিষেবা দিয়ে গিয়েছি। তারপরও রাজনৈতিকভাবে বোর্ড ভেঙে দিল তৃণমূল।” তবে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পুরুলিয়ার সাংসদ ও পুরুলিয়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক-র সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তিনি আগামী দিনে পুরসভা চালাবেন। এদিকে বিজেপির কোর কমিটির সদস্য গৌতম রায় বলেন, ”হাইকোর্টের রায়ে যারা পুনরায় বোর্ড ফিরে পেয়েছে, তারা বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে আইনি লড়াই করেন। হাইকোর্টের রায় সম্বন্ধে আমাদের কোন কিছু বলার নেই। যদি আমাদের কথামতো পুরবোর্ড চালায় তাহলে চালাবে। আগের পুর বোর্ডে কি কি দুর্নীতি হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
সর্বশেষ খবর
-
বিপজ্জনক গতিতে ছুটে এল উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু প্রৌঢ়র
-
পণের দাবিতে খুনে স্বামীকে শাস্তি দিতে প্রমাণের প্রয়োজন নেই! চাঞ্চল্যকর রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের
-
কংগ্রেসে ফিরছেন অমরিন্দর? রাহুলের প্রশংসার পর মুখ খুললেন ‘ক্যাপ্টেন’ নিজেই
-
‘এবার শান্তি পেয়েছেন তো?’ সনৎ দে-র গ্রেপ্তারিতে ‘পার্থ জ্যেঠু’র বিরুদ্ধে বিষোদগার মেয়ের
-
সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পিলখানা! জঙ্গি হামিমের পর গ্রেপ্তার আরও এক যুবক, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র