Purulia

শহিদ সপ্তাহেই ‘জালে’ মিসির, ধৃতকে জেরা করে মাও বঙ্গ ব্রিগেডের খোঁজে পুলিশ

গিরিডি জেলার পিরতাঁড় থানার মাদান্ডিহ গ্রামের বাসিন্দা ওই ধৃত পলিটব্যুরো সদস্য ভাস্কর, সুনির্মল, সাগর নামে দু'দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছিলেন।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১৩:১২

options
link
শহিদ সপ্তাহেই ‘জালে’ মিসির, ধৃতকে জেরা করে মাও বঙ্গ ব্রিগেডের খোঁজে পুলিশ
ঝাড়খন্ড পুলিশের জালে গ্রেপ্তারের পরই সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারান্ডায় ১৬ জনের মৃত্যুর পর সঙ্গীদের জানিয়ে দিয়েছিলেন তাদের নিজস্ব মতামত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে! আর তারপরেই মাও কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া সিপিআই (মাওবাদী)-র শেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে। মাওবাদী মুক্ত ভারত ঘোষনার পর ৬৬ বছর বয়সী দেড় কোটি টাকা মাথার দামের ওই শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ-গিরিডির সীমানায় ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে মঙ্গলবার রাতে পাকড়াও করে ঝাড়খন্ড পুলিশ।

Advertisement

সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ শে জানুয়ারি একসাথে ১৬ জনের মৃত্যুতে সারান্ডার ঘনজঙ্গলেও কোনঠাসা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মিসির।

মাও দমনে ঝাড়খন্ডে মোতায়েন থাকা সিআরপিএফ-সহ গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশ ওই এলাকার টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালাতে গিয়ে ২ সঙ্গী-সহ গ্রেপ্তার হন মিসির। সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার? নাকি একেবারে কোনঠাসা হয়ে ধরা দিলেন ওই পলিটব্যুরো সদস্য? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের একদা মাও দমনে বাহিনীর মধ্যে। সিপিআই (মাওবাদী)-দের শহিদ সপ্তাহ (২৮ জুলাই-৩ আগস্ট)-র মধ্যেই গত মঙ্গলবার-ই ঝাড়খন্ড পুলিশের কাছে ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। তারপরই মিসির বেসরা ও তাঁর দুই কমরেড মেহনত ওরফে মচ্ছু ও গৌরব ওরফে সৌরভ ধরা পড়ে যান। মিসিরকে জেরা করে মাও বঙ্গ ব্রিগেডের খোঁজ পেতে এখন মরিয়া ঝাড়খন্ড-সহ এ রাজ্যের পুলিশ। কারণ ধারাবাহিক যৌথ বাহিনীর অভিযানে কোণঠাসা হয়ে জীবিত কমরেডদের প্রতি ওই শীর্ষ নেতার স্বাধীন মতামতের বার্তা দেওয়ার পরেই তার কাছ থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মন্ডল ওরফে আকাশ দলবল নিয়ে সরে আসেন। তাঁরা বাংলা ছুঁয়ে ঝাড়খন্ড সীমানায় ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।

Advertisement

গিরিডি জেলার পিরতাঁড় থানার মাদান্ডিহ গ্রামের বাসিন্দা ওই ধৃত পলিটব্যুরো সদস্য ভাস্কর, সুনির্মল, সাগর নামে দু’দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তাত্ত্বিক নেতা ছাড়াও সংগঠনের অপারেশনাল কাজও দেখতেন। যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সংগঠন একেবারে তলানিতে ঠেকলেও দীর্ঘদিন ধরে রীতিমতো একটি বড় প্ল্যাটুন নিয়ে ঝাড়খণ্ডে ঘন ঘন ডেরা বদলে জঙ্গল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একের পর এক গ্রেপ্তার, আত্মসমর্পণ, যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ শে জানুয়ারি একসাথে ১৬ জনের মৃত্যুতে সারান্ডার ঘনজঙ্গলেও কোনঠাসা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মিসির। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝাড়খন্ড পুলিশের কাছে খবর আসে ওই শীর্ষ মাও নেতা কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পারশনাথ পাহাড়ের জঙ্গলে রয়েছেন। তারপরেই ওই পাহাড় সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুরু হয় অভিযান। ওই শীর্ষ নেতার পরিবার জানিয়েছে, সপ্তাহ দুয়েক আগেও ঝাড়খন্ড পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে আত্মসমর্পণের বার্তা দেয়। তারপরেই গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় খানিকটা অবাক ওই শীর্ষ মাও নেতার পরিবার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.